চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। বিএনপি সরকার দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চায়।
বুধবার রাজধানীতে ‘চীন-বাংলাদেশ রাজনৈতিক দল প্লাস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক এবং বাংলাদেশ-চীন পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।
সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে রিজভী বলেন, প্রতিনিধি দলের এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং স্থায়ী অংশীদারত্বের গভীর প্রতিফলন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা এবং শান্তি ও উন্নয়নের অভিন্ন প্রত্যয়ের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে তা আরও গতিশীল হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনের প্রিমিয়ার লি কিয়াং ও বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যকার পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সফরে স্বাক্ষরিত ১৪টি চুক্তি দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে এ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই বিএনপির লক্ষ্য।
এ সময় বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও বস্ত্রশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান রিজভী।
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশ-চীন পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ সেন্টারের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হবে। কেন্দ্রটিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, দুই দেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, সফর, যৌথ অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়কে সভাকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে এ বন্ধুত্বের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রমুখ।