বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, জাতীয় জীবনে বেশ কিছু সমস্যা প্রকট হচ্ছে, যেগুলো অতীতে ফেলে রাখা অসমাপ্ত কাজের যন্ত্রণা। বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে সরকারকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জনতার অধিকার পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের মাতৃভূমি। আমাদের মা ১০ মাস সন্তানকে শরীরে বহন করেন, কমপক্ষে তিন বছর তাকে বাহুতে আবদ্ধ করে রাখেন। তারপর সারা জীবন তাকে হৃদয়ের মধ্যে, অন্তরের অর্জন করে রাখেন। তো সেই মাতৃভূমি যদি মা হয়, মায়ের প্রতি দায়িত্ব অনেক বেশি থাকে সন্তানদের। তিনি বলেন, আজকে জাতীয় জীবনে বেশ কিছু সমস্যা প্রকট হচ্ছে, যেগুলো অতীতের ফেলে রাখা অসমাপ্ত কাজের যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণার মধ্যে বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এই তিনটি দিকে সরকার মনোযোগ দিচ্ছে। আরও বেশি মনোযোগ এবং যত্ন নেওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি আছে এমন কিছু না। তবে হ্যাঁ, সমন্বয়টা আরও জোরদার হওয়া উচিত। আরও বেশি আত্মসমন্বয়ের ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নেওয়া উচিত
প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপন প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে এবং কিছু উদাহরণ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা নতুন অধ্যায়ের শুরু করেছেন। তিনি সরকারি বাড়িতে উঠেননি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে; সরকারি গাড়ি নেননি; সরকারি প্রটোকলের অর্থ সাশ্রয়ের জন্য সরকারি প্রটোকলের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছেন। চারটি গাড়ি ছিল, সর্বশেষ সেখান থেকে আরও কমিয়ে দিয়ে বর্তমানে দুটি গাড়ি আছে। প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের মাঝখানে চলে যান। সব প্রটোকল ভেদ করে প্রধানমন্ত্রী শুক্র-শনিবার অফিস করেন নিজে।
আলাল বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে যে ভাতাটা আসে, সেখান থেকে ১০ শতাংশ তিনি সরকারের জাকাত প্রতিষ্ঠানে দান করেছেন। এই উদাহরণগুলো তার টিমে, মন্ত্রিপরিষদে বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারাও যদি অনুসরণ করেন, তাহলেও এটা খুব স্রোতধারার মতো বয়ে যাবে একদম তৃণমূল পর্যন্ত।’
প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে আলাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সচিবালয়, শিক্ষাকেন্দ্র এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের বলেন— এখানে তো অতীতের ফ্যাসিস্টদের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারী যারা আছেন, তারা তো কিছু কিছু রয়েছেন। তাদের যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রাখা উচিত এবং তাদের ব্যাপারে যে পদক্ষেপ যখন নেওয়া দরকার, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সেটা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।