বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভায় প্রস্তাব গৃহীত
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিপরীতে গত ৫৫ বছর দেশ পরিচালনা হয়েছে বলে এক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সভায়। শুক্রবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দলটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিষদের সভায় এ প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সভার প্রস্তাবে বলা হয়, গত ৫৫ বছর বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার জন্মের ঘোষণা অনুযায়ী চলতে পারেনি; বরং এই ঘোষণাপত্রের বিপরীত পথেই হেঁটেছে। সাম্যের পরিবর্তে নিদারুণ অসাম্য, মানবিক মর্যাদার পরিবর্তে নানা সময়ে গুরুতর মানবিক বিপর্যয়, সামাজিক ন্যায়বিচারের বদলে নিষ্ঠুর নিপীড়নমূলক সামাজিক - রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা জেঁকে বসেছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই অবস্থা পরিবর্তনের এক অসাধারণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের এই পরিবর্তনে নেতৃত্ব প্রস্তাবে ১৯৭১ সালে মেহেরপুরের আম্রকাননে গঠিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় এবং বলা হয় এটা ছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বস্তুত এই সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মহান স্বাধীনতার সংগ্রাম পরিচালিত হয়। এই সরকার গঠন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অনুমোদন ছিল এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বার্তা পৌঁছে দেবার জন্য এই ঘোষণাপত্র ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আদর্শিক- রাজনৈতিক দিশাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল।
বিএনপি সরকার প্রসঙ্গে বলা হয়, প্রথম দিকে এই সরকারকে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বাড়তে থাকলেও এখন মাত্র দুমাসের মাথায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রত্যাশার পারদ কিছুটা নামতে শুরু করেছে, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কোন কোন ক্ষেত্রে দেশবাসীকে আশাহত করছে।
দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন- রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন প্রমুখ।