হোম > রাজনীতি > ইসলামী আন্দোলন

জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছি: চরমোনাই পীর

স্টাফ রিপোর্টার

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় কার্যকরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে থাকার কথা জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, অক্ষরে অক্ষরে এই সনদ বাস্তবায়িত হবে। আমরা তার কথায় আস্থা রাখতেই পারি, আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি।

এছাড়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, গণভোটেতো ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। জুলাই সনদের মধ্যেই গণভোটের বিষয়টি আছে। তাই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন, আমরা সেই অপেক্ষায় থাকবো।

সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদেরে সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে চরমোনাই পীর এসব কথা বলেন।

সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনে দলীয় লোকদের বসানো প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নিয়ে দেশ চালানোর কথা বলেছেন। সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দলীয়করণ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রশাসনে দলীয় লোক না বসিয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে সমঝোতা প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসা এবং এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র একটি আসনে বিজয়ী হওয়াসহ পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন চরমোনাই পীর।

তিনি বলেন, যে আশায় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, গত ৫৩ বছরে বাস্তবে তার একটাও পূরণ হতে দেখিনি। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সুন্দর একটি পরিবেশ এসেছিল, আগামীতে এ ধরনের পরিবেশ আর আসবে কি-না জানি না।

মুফতি রেজাউল করীম বলেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কাছ থেকে ভালো কিছু পাব বলে আমরা আশা করিনি। তাই নতুন ধারায় সুন্দর দেশ উপহার দিতে দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলাম। প্রথমে কওমি ঘরানার পাঁচটি দল ও পরে জামায়াতসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করার উদ্যোগ নিই।

সেই সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার কারণ হিসেবে চরমোনাই পীর বলেন, সমঝোতায় নতুন দলের সংযুক্তি ও তাদের আসন বণ্টনের বিষয়ে সমঝোতায় আগে থেকেই থাকা দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে জামায়াতের একক সিদ্ধান্ত নেয়া, ভারত-আমেরিকার সঙ্গে তাদের গোপন বৈঠক করা, ইসলাম অনুযায়ী দেশ পরিচালনা না করে বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনা করার অঙ্গীকার করা এবং মার্কিনিদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রবাদী বলে সার্টিফাই করার প্রেক্ষিতে সমঝোতা ভেঙে যায়।

পরে মামুনুল হকসহ কওমি ঘরানার দলগুলোকে নিয়ে আলাদা জোটের চেষ্টা করলেও তারা রাজি হয়নি। তাছাড়া বিএনপি থেকে প্রস্তাব প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চরমোনাই পীর বলেন, আমাদের রাজনীতি ‘দেশ-ইসলাম ও মানবতার কল্যাণের’ জন। কেবল এমপি ও মন্ত্রীত্বের জন্য আমরা রাজনীতি করি না। তাই যত প্রস্তাবই দেওয়া হোক না কোনো তারা আমাদের পাবে না। লক্ষ্য-উদ্দেমের সঙ্গে মিল হলে আগামীতেও জোট হতে পারে, কোন বাধা নেই, পথ খোলা আছে।

নির্বাচন পরবর্তী কাজের ব্যাপারে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। নেতাকর্মীদের মাঝে স্থবিরতা চলে এসেছে। তাই আমরা দল গোছানোর কাজ হাতে নিয়েছি।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিকে গোলামির চুক্তি আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি করেন চরমোনাই পীর।

এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজেপি যা করছে তা কোন সভ্যরাষ্ট্র করতে পারে না। ভারতকে এই বর্বরতা থেকে বিরত থাকতেই হবে।

দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ সহ শীর্ষ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এএস

ঢাকার দুই সিটিতে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

নারী প্রশ্নে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি নয়, আমাদের ঐতিহ্যের দৃষ্টিতে দেখতে হবে

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতন হিন্দুত্ববাদের উগ্রতার বহিঃপ্রকাশ: কাইয়ূম

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা মানা হবে না: ইসলামী আন্দোলন

বিগত নির্বাচনে ইসলামের স্বার্থে আমরা সমঝোতা ত্যাগ করেছিলাম

জুলাই পরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের মহড়ায় আমরা শঙ্কিত

নিরাপদ শিক্ষাঙ্গণ নিশ্চিতে সন্ত্রাসীদের না বলুন: ইসলামী ছাত্র আন্দোলন

পিআর দাবি সরকারকে মেনে নিতে হবে: ইসলামী আন্দোলন

‘তেল ও এলপিজির উচ্চমূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’

জনদুর্ভোগ লাঘবে আন্তরিকভাবে কাজ করুন: সরকারকে ইসলামী আন্দোলন