ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে দিনজুড়ে ছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নানা অভিযোগ। ভোটগ্রহণ চলাকালীন বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে জোরপূর্বক সিল মারার অভিযোগ করে।
নির্বাচন চলাকালে ১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে।
বিরোধী প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ভোটে কোনো প্রকার সূক্ষ্ম কারচুপি বা সিল মারার ঘটনা ঘটলে রাজপথে আন্দোলন জোরদার করা হবে।
তবে দিন শেষে ঢাকা থেকে ডিজিটাল মনিটরিং ও কেন্দ্র তদারকি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জানান, বিরোধী প্রার্থীর উত্থাপিত অনিয়মের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ইসি পায়নি। নির্বাচন ভবন থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ফিল্ড নজরদারির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হয়েছে উল্লেখ করে ইসি দাবি করে, ভোট প্রদান প্রক্রিয়া সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের মত প্রকাশ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং গত ১০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এই উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।