স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মাস্টার ট্রেইনারদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ক মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ-২০২৬’অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর উত্তরায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিভাগের আয়োজনে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সাফল্য দুই ধরনের—ব্যক্তিগত সাফল্য ও সামষ্টিক সাফল্য। একটি দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে সেটিকে দুনিয়াবি অর্থে সামষ্টিক সাফল্য বলা যায়; কিন্তু আখেরাতের সাফল্য ভিন্ন বিষয়। আমাদের লক্ষ্য দুনিয়া ও আখেরাত উভয় ক্ষেত্রেই কল্যাণ অর্জন করা।
তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনেও আমরা আরো বেশি সাফল্য লাভ করতে পারি, এজন্য এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরো সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে জনগণ বিভিন্নভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ নম্বর অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। স্থানীয় সরকারকে তিনি “গণতন্ত্র চর্চার প্রাথমিক বিদ্যালয়” হিসেবে উল্লেখ করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক নিয়োগের ফলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে, জনগণের দুর্ভোগ তত বাড়বে এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সক্ষমতা তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই জনগণের স্বার্থে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।
তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী মাস্টার ট্রেইনারদের উদ্দেশে বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে সংগঠনের প্রস্তুতি, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য সবাইকে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে জামায়াত। সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রক্রিয়াই হলো সংগ্রাম। প্রশাসনিক সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের নেতৃত্বে আসতে হবে। জনমতকে কার্যকর শক্তিতে পরিণত করতে হলে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
আব্দুস সাদেক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল, কোর ট্রেইনার ও মাস্টার ট্রেইনারগণ অংশগ্রহণ করেন।