স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি। তিনি বলেন, বেতন না পেলে শিক্ষকরা পরিবার চালাবেন কীভাবে? শিক্ষকদের অনাহারে-অর্ধাহারে রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।
বুধবার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে আয়োজিত নন-এমপিও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বেতন না পেলে শিক্ষকরা না খেয়ে থাকবেন? নন-এমপিও শিক্ষকদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি ঘোষণা দেবেন। শিক্ষকরা অনাহারে-অর্ধাহারে আছেন। শিক্ষক হচ্ছেন শিক্ষার কারিগর।
তিনি আরও বলেন, নন-এমপিও শিক্ষকরা বেতন না পেয়ে রাস্তায় নেমে গেলে এর দায় সরকার এড়াতে পারবে না। যাঁদের উল্টাপাল্টা বক্তব্যের কারণে শিক্ষকরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন, তাঁদেরই এর দায় নিতে হবে। বিএনপির আগামী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শিক্ষকদের এ দাবির বিষয়টি আমরা আলোচ্য তালিকায় এনেছি। আপনাদের এ দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণ হবে বলে আশা করছি।
সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। শিক্ষকদের মর্যাদা না দিলে নিজেরাই মর্যাদাহীন হয়ে পড়বেন। শিক্ষকদের পেটে ভাত না থাকলে তাঁরা যথাযথভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব শিক্ষিত মানুষের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা নিশ্চিত না করলে তাঁরা অকৃতজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হবেন। এ ছাড়া অবসরে যাওয়ার পরপরই যেন শিক্ষকরা তাঁদের প্রাপ্য অবসরভাতা পান, সে ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, একসঙ্গে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হবে না। তাই এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. সেলিম মিঞার সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, ডা. ইকরামুল বারী টিপু এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব মো. জাকির হোসেন প্রমুখ।