রাজনৈতিক হীনমন্যতা থেকে বিএমডিসিকে দিয়ে ভুয়া চিকিৎসকের মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৭ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
তিনি বলেন, আমি বিএমডিসি রিকগনাইজড একজন ডাক্তার। কিন্তু আনফরচুনেটলি মিডিয়াতে কিছু ক্ষেত্রে এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে, আমি একজন ভুয়া ডাক্তার। এটা খুবই দুঃখজনক।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহার নিয়ে করা শোকজের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. খালিদুজ্জামান বলেন, বিএমডিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংগঠন, তারপরও আনফরচুনেটলি কোনো একটা প্ল্যানের থাবায়, প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে যেয়ে এরকম প্রতিদ্বন্দ্বির বিপক্ষে কিছু কথা আমাদের মনে হচ্ছে চলে আসছে। আমরা অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিষয়টি অবজার্ভ করছি। আমরা এটার উত্তর দেব।
তিনি বলেন, ২০টা দেশের মানুষ আমার কাছে ট্রিটমেন্ট নিতে আসে। আমি তো একদিনের ডাক্তার না। আমি এভারকেয়ারে কাজ করছি, যেখানে জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেআইসি) আমার সিভি তিন বছর অন্তর অন্তর ভেরিফাই করছে। সুতরাং ১৮ বছরে সমস্যা হল না, হঠাৎ করে কেন হল? রাজনৈতিক হীনমন্যতা থেকেই এটা আমার ওপরে করা হয়েছে। এটা টিকবে না। আমার জনপ্রিয়তা এখানে অনেক বেশি। আমি বিপুল ভোটে পরাজয় করে সংসদে যাব।
এই সংসদ প্রার্থী আরও বলেন, এটি খুব সামান্য একটা ব্যাপার, একটা এপ্লিকেশন করতে বলছে, আমরা তার জবাব দেব। এটা নিয়ে এরকম বিশাল তুলকালাম করার দরকার ছিল না। আমি চাই না যে ভবিষ্যতে সংসদে এসএসসি পাস, ইন্টারমিডিয়েট পাস বা মমতাজ, গায়ক, নায়করা আবার সংসদে যাক। কিন্তু অনেক কিছু বের হয়ে আসছে কিনা? কে এসএসসি পাস করতে যেয়েও দুই-তিনবার ফেল করছে এমনও তথ্যও চলে আসছে। সাংবাদিক এবং শিক্ষক যদি তাদের নৈতিকতা কোনো দলের কাছে বন্ধক রেখে ময়দানে আসে, তাহলে সেখানে কিন্তু স্বৈরাচার আবার জন্ম নিবে। আমরা সবাই মিলে এই দেশটাতে গড়ার চেষ্টা করছি। আপনি আমি না হয় না খেয়ে থাকব, না হয় ঘাস-পাতা খেয়ে থাকব। তারপরও নিজের নৈতিকতাকে বিক্রি করব না। এই প্রতিজ্ঞা করেন আপনারা।
এ সময় ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. একেএম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, আমাদের চিকিৎসা পেশার রেগুলেটরি বডি বিএমডিসির জন্য এটা দুঃখজনক। প্রথম কথা হল, মেডিকেল বিষয়ের এমন অনেক সাবজেক্ট আছে যেগুলোর আমাদের দেশে কোন কোর্স নাই। আর যে সমস্ত বিষয়ের কোর্স আমাদের দেশে নাই, সেগুলোকে বিএমডিসিতে ইভালুয়েট করা, এটাকে সনদ দেওয়া, এটার ব্যবস্থাও নাই। এখন আপনারাই বলেন, যে সমস্ত বিষয়ে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন কিন্তু ওই বিষয়ের আমাদের দেশে নাই, কোন একজন ডাক্তার তার নিজের চেষ্টায় বিদেশ থেকে গিয়ে অনেক টাকা খরচ করে, অনেক পরিশ্রম করে একটা ডিগ্রি এনে যদি চিকিৎসার কাজ শুরু করে, আর আমরা যারা বিএমডিসিতে আছি, আমরা যারা এই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করব, আমরাই যদি এটার জন্য বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াই— এর চাইতে আর দুঃখের কথা কি হতে পারে? আমাদের ছোট ভাই খালিদের ক্ষেত্রে এরকমই একটা ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, যে বিষয়ের উচ্চতর ডিগ্রির ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করতে পারি নাই, আমাদের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হোক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে হোক সেই ধরনের একটা বিষয়ে যখন একজন ডাক্তার নিজ দায়িত্বে, নিজের খরচে বিদেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে এসে কাজ শুরু করেছে, তখন বিএমডিসির উচিত ছিল এই বিষয়টাকে কিভাবে তাড়াতাড়ি একটা রিকগনিশনের আওতায় আনা যায়, এটার জন্য কিভাবে একটা ফর্মুলা তৈরি করা যায় সেটা তৈরি করা। কিন্তু উল্টা কাজটা করা হল এই ভাইয়ের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এবং তার পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা ব্যবস্থা করা হল।
এনডিএফ'র এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, "জেসিআই আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসা পেশা এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক্রিডেশন দেওয়ার একটা অথরিটি। জেসিআইয়ের অথরিটি বাংলাদেশে এক-দুইটা প্রতিষ্ঠানের মাত্র আছে। এর মধ্যে এভারকেয়ার একটা। জেসিআইয়ের এক্রিডেশন দেওয়া মানে সারা পৃথিবীতে এটাকে এক্রিডেশন দেওয়া। সেই জেসিআইয়ের এক্রিডেশনে যে ডাক্তার খালিদুজ্জামান ইনফার্টিলিটিতে কনসালটেন্ট হিসেবে স্বীকৃত, তাকে বিএমডিসির পক্ষ থেকে শোকজ করাটা অত্যন্ত নিন্দনীয় একটা কাজ।"
তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ২৫ বছরে এই ধরনের মাত্র একটা বাচ্চা জন্ম লাভ করেছে। এতে ডাক্তার খালিদুজ্জামানের সহযোগিতা নিতে হয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সহযোগিতায় একটা এই ধরনের বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা যেখানে করা হল, সেইখানে এটি এই ধরনের একটা পটেনশিয়াল এবং হাইলি কোয়ালিফাইড ডাক্তারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা অপপ্রয়াস। এমন একটা সময়ে এই কাজটা করা হল যখন ডাক্তার খালিদুজ্জামান বাংলাদেশের একজন সবচাইতে আলোচিত প্রার্থী। এই ধরনের একজন আলোচিত ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই ধরনের একটা দু-নম্বরি প্রক্রিয়া অবলম্বন করাটা, যারা এই প্রক্রিয়াটা অবলম্বন করেছে তাদের জন্য কতটুকু সহায়ক হবে? আমি মনে করি এটা খালিদুজ্জামানের পপুলারিটিকে আরও আকাশচুম্বি করতে সহায়ক হবে। এইটা প্রার্থীর ইমেজ ক্ষুন্ন করার একটা অপপ্রয়াস। কিন্তু আমি মনে করি যেই প্রক্রিয়ায় আমাদের ছোট ভাই খালিদুজ্জামানের ইমেজ ক্ষুন্ন করার জন্য অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, এটা বুমেরাং হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কমপক্ষে এক হাজার ব্যক্তি এরকম বিদেশি উচ্চতর ডিগ্রিধারী চিকিৎসক পাবেন। এর মধ্যে একই বিষয়ের ডিগ্রিধারী চিকিৎসক রয়েছেন অন্তত ২৫ জনের বেশি। তাহলে তাদের নামে কোন ধরনের কোন শোকজ নাই, খালিদুজ্জামানের জন্য কেন শোকজের ব্যবস্থা হল, এটা আপনারাই জাতির কাছে ক্লিয়ার করবেন।