জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকট-চারিত্রিক মূলধনের সংকটে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তা একটাই, তা হচ্ছে-নবী করিমের (সা.) নকশা কদম অনুসরণ করা। পায়ে পায়ে, অক্ষরে অক্ষরে তাকে অনুসরণ করে চলা।
তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই প্রিয় নবীকে বিশ্ব মানবতার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত রহমত এবং অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। শিশু, কিশোর, যুবকদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ রাসূল (সা.)। এই সব বয়সে আল্লাহ তাকে নিয়ামত ভরা আখলাক দিয়ে তাকে সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছিলেন।
তিনি বলেন, আজকে মুসলিম বিশ্ব আল্লাহ ও তার রাসূলের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পরিণতি ভোগ করছে। এই সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিযোগীদের হৃদয় আলোকিত হয়েছে বলে মনে করি। তারা মানবজাতির জন্য রাসুল (সা.) কত বড় নেয়ামত-তা জানার সুযোগ পেয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক ট্যালেন্ট আছে, কিন্তু তাদের বেশিরভাগ ‘ইভিল ট্যালেন্টস’। আল্লাহর দেওয়া মেধাকে মানবতার কল্যাণে কাজে না লাগিয়ে এই স্বার্থপর-সংকীর্ণমনা লোকগুলো শুধু বৈধ-অবৈধ সব পথে তার নিজের লাভটা খুঁজে বেড়ায়। এতে সে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষকে ঠকায়। পরিণতিতে তাদের অবস্থান ভালো জায়গায় হয় না, খাল-বিল নদীতে হয়। আর আল্লাহর কাছে ফিরে গেলে তার পাওনা বুঝে নেবে। সেদিন কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না। কিছু মানুষ সম্মানিত হয়ে হাজির হবে, আর কিছু মানুষকে অপদস্ত হয়ে হাটুগাড়া করে বেধে আল্লাহর সামনে ফেলে দেয়া হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাসূলের (সা.) ওপর যখন ওহি নাজিল হলো-তখন যারা তার আশ্চর্যজনক বৈশিষ্টের কারণে তাকে আল-আমিন, আস- সাদিক উপাধি দিয়েছিলেন, এসব জানের বন্ধুরাই তখন প্রাণের শত্রুতে পরিণত হয়ে যায়। শুধু সত্যবাহক হিসেবে তার বিরোধিতায় অন্ধভাবে নেমে পড়ে। তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে ইনসানিয়াতে কামেলাহ দান করেছিলেন। এজন্য দুনিয়ায় একজন মানুষেরই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় নিখূতভাবে-বিশুদ্ধভাবে লেখা আছে, এতে দ্বিতীয় কোনো মানুষের সন্তান দুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই মানুষ হচ্ছেন-মুহাম্মদ রাসুল্লাহ (সা.)। এমনকি তার জীবনের গোপনীয় বিষয়গুলোও ইন্তেকালের আগে স্ত্রীদেরকে অসিয়ত করে গেছেন যে, এগুলো জনগণকে জানিয়ে দিবে।
কারণ নবীদের প্রকাশ্য ও গোপন সব আমলের উত্তরাধিকারী আমরা উম্মতরা। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম চরিত্রে বৈশিষ্টমণ্ডিত করেছেন বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এটা বিশ্ব মানবতার জন্য নেয়ামত। পৃথিবীর যে অংশের মানুষ যতদিন পর্যন্ত এই নিয়ামতকে আঁকড়ে ধরেছে, তারা নিজেরা উপকৃত ও গৌরবান্বিত হয়েছে, নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব তারা ভোগ করেছে। আর যখন আল্লাহর বিধান ও রাসূলের (সা.) সুন্নত থেকে মানুষ সরে গেছে, তখনই তারা বিপথগামী, পরাজিত, লাঞ্ছিত এবং নিজ ভূমিতে এসে পরবাসী হয়েছে।
শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল আলম, শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ। এ সময় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ওমরাহ সুযোগসহ বিজয়ীদের নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।