হোম > রাজনীতি > জামায়াত

গাজীপুরকে আধুনিক শিল্প এলাকা ও নারী পুরুষের বেতন বৈষম্য দূর করা হবে

নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমির

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের ভোটে যদি ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম হয়, তাহলে ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের ওপর আর বে-ইনসাফ কায়েম হবে না ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা হলেও এখানে শ্রমিকদের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি রয়েছে। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে শিল্পাঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে গাজীপুরকে আধুনিক শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, এ শিল্প এলাকাকে শিল্পের মতো করেই সাজানো হবে, শিল্পের সাজানো বাগানের মতোই করা হবে। শিল্প কারখানাগুলোতে নারী-পুরুষ শ্রমিকের বেতন সমান করে বৈষম্য দূর করা হবে। মায়েরা গর্ভবতী হওয়া থেকে শুরু করে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর বুকের দুধ খাওয়া সময় পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই বছর সময় মায়েরা কর্মস্থলে আট ঘণ্টারস্থলে ৫ ঘণ্টা কাজ করবে। অবশিষ্ট ৩ ঘণ্টা তারা সন্তানকে সময় দেবেন। এতে তাদের আয় রোজগার অবশ্যই কমবে না। ওইসময় তাদের কর্মস্থল থেকে ৫ ঘণ্টার এবং বাকি ৩ ঘণ্টার বেতন দেবে সরকারের সমাজ সেবা অধিদপ্তর। এটা সরকারকে দিতে হবে, তাদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি সুস্থ মা ও একটি সুস্থ শিশু আগামী দিনের সুস্থ সমাজ। এ সম্মান মায়েদেরকে দিতে হবে। শিল্প কারখানাগুলোতে কতসংখ্যক মহিলা থাকলে ডে-কেয়ার সেন্টার থাকতে হবে আমরা তা নির্ধারণ করে দিব। মায়েদের প্রতি আমাদের একটি বাড়তি দায়িত্ব আছে, গৃহে, চলাচলে ও কর্মস্থলে তাদের আমরা নিরাপত্তা দেব, তাদের মর্যাদা আমরা নিশ্চিত করবো ইনশায়াল্লাহ।

তিনি ত্রয়োদশ নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরে ১১ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আ স ম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যায়নুল আবেদীন, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য খায়রুল হাসান, মো. হোসেন আলী, সালাউদ্দিন আইউবী, অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

জামায়াতের আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মনগড়া উন্নয়ন নয়, এমন উন্নয়ন হবে যার সুবিধাভোগী হবে আপামর জনগণ। আমরা কোনো জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য করবো না। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়াই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা ক্ষমতায় গেলে গাজীপুরসহ দেশের উন্নয়ন করবো। আপনারা হয়ত প্রশ্ন করতে পারেন দেশের উন্নয়নের জন্য এতো টাকা পাবেন কোথায়। আমি বলছি দেশের উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট টাকা আছে, তবে সেই টাকা আছে দেশের বাইরে। চোরগুলো দেশের টাকা লুণ্ঠন করে বাইরে পাচার করে দিয়েছে। যারা দেশের টাকা ও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, দেশের বাইরে পাচার করেছে। আমরা যদি সুযোগ পাই তাদেরও মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে পেটের ভিতর থেকে সেগুলো বের করে আনবো ইনশাআল্লাহ। সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। পরে সেগুলো যার যেমন পাওনা, যে এলাকার যেমন হক, যতোটুকু পাওনা- সেই এলাকায় তাদেরও দেওয়া হবে। তবে আমরা মনগড়া পন্থায় কোনো উন্নয়ন করবো না, নিজেদেও ভাগ্য বদলের কোনো উন্নয়ন করবো না, ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলের উন্নয়ন আমরা করবো ইনশায়াল্লাহ। এ উন্নয়নের অংশীদার হবেন আমাদের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, সকল শ্রেণির মেহনতি মানুষ, সকল শ্রেণির পেশার মানুষ, এ উন্নয়নের কারিগর হবেন আমাদের যুব সমাজ। তিনি আগামী ১২ তারিখ ইনসাফের পক্ষে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমরা ইনসাফ পূর্ণ একটি দেশ চাই। এবারের নির্বাচনে আমাদেরও অঙ্গীকার দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া। অপর একটি দলের নেতৃবৃন্দও বলছেন তারাও দুর্নীতিমুক্ত করবেন। ভালো কথা, তবে ভালো কাজ আগে নিজের থেকে শুরু করতে হয়, সেটার প্রমাণ আগে দেন। আপনারা ৪৯ জন ঋণ খেলাপিকে বগলের নীচে নিয়ে নির্বাচন করছেন, আগে তাদেরটা বাতিল ঘোষণা করেন। যদি সাহসিকতার সঙ্গে এ কাজ করতে পারেন, তাহলে জনগণ আপনাদেরও কিছুটা হলেও বিশ্বাস করতে পারে। আর যদি ঋণ খেলাপিদের বগলের নীচে রেখে বলেন আমরা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বেন তাহলে বিষয়না এমন হবে- আপনারা যা বলেন তা করেন না, আর যা করেন তা বলেন না। আমরা তা চাই না, দেশবাসী সবাইকে জানে এবং চিনে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমি চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে এর অংশীদার হবো আমরা সবাই। আমরা কোন দলীয়, কোন পারিবারিক এবং গোষ্ঠীগত সরকার এই দেশে আর দেখতে চাই না। এরা আমাদেরও বারোটা বাজিয়েছে, এরা বারবার দেশে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, এরা আমাদেরও ব্যাংক ডাকাতি করেছে, শেয়ার মার্কেট লুট করেছে, দুর্নীতির মহারাজ্যে পরিণত করেছে। ওই শাসন আর আমরা দেখতে চাই না। এখন চাই জনগণের শাসন। এখন চাই ঐক্যেও শাসন। এখন চাই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী অপর দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে কি করবে এখনই তা মানুষকে জানিয়ে দিচ্ছে। তারা ক্ষমতায় গেলে একটি মানুষও নিরাপদে বাংলাদেশে থাকতে পারবে না, একজন ব্যবসায়ীও নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবে না, একজন শ্রমিক নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না, কৃষক শান্তিতে মাঠে ফসল ফলাতে পারবে না। তারা সবার শান্তি তছনছ করে দিবে। এ অশান্তির বিপক্ষে আমাদেরও শান্তির আওয়াজ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সততার আওয়াজ, বেকারত্বেও বিরুদ্ধে আমাদেরও কাজের আওয়াজ, লুটপাটের বিরুদ্ধে আমাদের সম্পদের পাহাড়াদারী করার আওয়াজ।

জনসভায় তিনি গাজীপুর-১ আসনে জোটের প্রার্থী শাহ আলম বকশি (দাঁড়ি পাল্লা), গাজীপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান (শাপলা কলি), গাজীপুর-৩ আসনে মাওলানা এহসানুল হক (রিকশা প্রতীক), গাজীপুর-৪ আসনে সালাউদ্দিন আইউবী (দাঁড়ি পাল্লা), গাজীপুর-৫ আসনে খায়রুল হাসান (দাঁড়ি পাল্লা) এবং নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী সারোয়ার তুষারকে (শাপলা কলি) জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।

এবার জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের গণসংযোগ

নেতাকর্মীদের যে আহ্বান জানালেন জামায়াত আমির

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে জামায়াতের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ কাল

এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক নিয়ে কথা বলতে বঙ্গভবনে যাচ্ছে জামায়াত প্রতিনিধিদল

আমরা টাকা পাচারকারীদের ঘুম হারাম করে দেব

জাতিকে বিভক্ত করার সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না

আজ গাজীপুর-ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন জামায়াত আমির