রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কর্মীদের প্রোগ্রাম চলাকালে আটকে রেখে হেনস্তা এবং স্থানীয় জামায়াত-শিবির কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিরপুরের পীরেরবাগে আলিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি বাসায় মহিলা জামায়াতের একটি বৈঠক চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বেলা ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ওই বাসায় জামায়াতের নারী নেত্রীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তাদের উদ্ধার করতে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং কয়েকজনকে একটি মসজিদে আটকে রাখে। হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় অবরুদ্ধদের উদ্ধার করা হয়। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের এই বর্বরোচিত হামলার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে জামায়াতের মহিলা বিভাগের কর্মীদের হেনস্তা ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ওপর হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতিতে নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রটারি জেনারেল বলেন, ‘জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে পরিকল্পিতভাবে পেশিশক্তি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধরনের ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপামর জনতাকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’