সিলেট জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সিলেট এয়ারপোর্ট পূর্ণমানের আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট না হবার কারণে শুধু বিমানের ওঠানামা হয় তাও লন্ডন থেকে। আর মাঝে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে দু’একটা বিমান সিলেট হয়ে ঢাকা যায়। কিন্তু আমাদের বিপুলসংখ্যক মানুষ ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন। বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট আছে। দুইটি এয়ারপোর্টে এয়ারলাইনস নামে। কিন্তু সিলেটে আসে না।
তিনি বলেন, সিলেটিরা মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেট পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট হবে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টার থেকে ফ্লাইট সিলেট আবার আসবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এদেশ এগিয়ে যাবে যুবকদের হাত ধরে। এদেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। মুখের কথা নয়, ঠোঁটের কথা নয় এটা আমাদের বুকের কথা। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে এই জাতি তাদের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা পাহাড়ি, সমতল, নিম্নাঞ্চল এবং সকল জাতি বর্ণ ও শ্রেণির মানুষদের নিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে থাকবেনা কোনো ভেদাভেদ। একটি শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে, আরেকটি শ্রেণি থাকবে ভুখা এটা আমরা হতে দেবো না। আগামী ১২ তারিখের ভোট হবে বাংলাদেশ পরিবর্তনের ভোট। এটা ২৪ এর যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। এই ভোটের সাথে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ আমরা পাবো।
চা শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেছি। চা শ্রমিকদের ভুলে গেলে আমি নিজেকেই ভুলে যাব। আমি তাদের জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করব। একটি স্বাস্থ্য ও অন্যটি সুশিক্ষা। আমরা চাইনা শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাণীর মেয়ে রাণী হবে। আমরা চাই যদি একজন শ্রমিক ভাই বা বোনের মেধাবী সন্তান হয় রাষ্ট্র তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নিবে এবং সে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে।
প্রবাসীদের কল্যাণমূলক পরিকল্পনা বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনেক লোকজন দেশের বাইরে যান। সেখানে অনেক প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হলে তাদের নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমরা এটা চাইনা। আমরা চাই রাষ্ট্র তার নিজ দায়িত্বে এই লাশগুলো সম্মানের সাথে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে। আবার কোন শ্রমিক প্রবাসে গিয়ে কাজ করতে মারা যায় তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া হবে। সে বেওয়ারিস পড়ে থাকবে না। তার পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার। দেশে চুরি এবং চাঁদাবাজি বন্ধ হলে এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করা যাবে।
হ্যাঁ ভোট নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, গণভোট বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার ভোট, নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট, চব্বিশের যোদ্ধাদের, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। সেই ভোট হচ্ছে গণভোট। সেই ভোটে হ্যাঁ হবে। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামী। জনতার উদ্দেশ্যে জামায়াত আমীর বলেন, আজাদী না গোলামী? সমস্বরে জনতা বলে উঠেন আজাদি।
কুলাউড়া আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সায়েদ আলীকে নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কুলাউড়া আসনে প্রার্থী দুইজন। একজন সায়েদ আলী। আর ছায়াপ্রার্থী হিসেবে আছি আমি।