ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হলেও গণনায় সুস্পষ্ট কারচুপি হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হুমকি ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। এগুলো না থামলে ও সঠিক প্রতিকার না পেলে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান অলরেডি ব্যক্ত করেছেন ১১ দলের অন্যতম প্রধান দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংগ্রামী আমির শফিকুর রহমান। আমাদের অবস্থান খুবই সুস্পষ্ট। এই নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। ভোট একটি পর্যায় পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হয়েছিল, আমরা সেটাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল ঘোষণা করার সময় স্পেসিফিক অনেকগুলো আসনকে টার্গেট করা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসন, ঢাকা-৮ আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের আসন—এরকম স্পেসিফিক বেশ কিছু আসনকে টার্গেট করে ফলাফল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলো দখল করে, জোর করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন যে প্ল্যানের কথা আমরা শুনেছি, সেই প্ল্যানের একটি বাস্তবায়ন বা স্বরূপ আমরা এই নির্বাচনে দেখতে পাচ্ছি। এই ধরনের ফলাফল কারচুপি করে যারা পুরোনো আমলে আওয়ামী লীগ যেভাবে নির্বাচন করেছে, সেই ধরনের প্রচেষ্টা আমরা যাদের ভেতরে দেখতে পাচ্ছি তারা কিভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে?
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরদিনই প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলা, সারাদেশে বাড়িঘরে হামলা ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। তাদের কাছে কি এই দেশের দায়িত্ব দেওয়া যায়? আমরা দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। জামায়াত আমির বলেছেন স্পষ্টভাবে, রাজপথে নামার প্রয়োজন হলে আমরা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ এই দেশের মানুষ, যারা ১১ দলের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছে নেতাকর্মী ও সমর্থক তাদের হেফাজত করা, তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের।
এনসিপি নেতা বলেন, আমরা জনগণকে অভিবাদন জানাই, যে জনগণ এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ১১ দলের পক্ষে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে দুটি পক্ষ ছিল একটি সংস্কারের পক্ষ, পরিবর্তনের পক্ষ; যারা সংস্কার চায়, গণতন্ত্র চায়, চাঁদাবাজি বন্ধ চায়, সরকারব্যবস্থাকে গঠনমূলকভাবে পুনর্গঠন চায়। আরেকটি পক্ষ, যারা পুরোনো বন্দোবস্তে জাতীয় সরকার করতে চায়, পূর্বের সংবিধানকেই চেয়েছে। একই জনগণ ভোট দিয়েছে, কিন্তু ভোট কারচুপি করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শেষ মুহূর্তে দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়ে ক্ষমতা নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনে সুস্পষ্টভাবে এই অভিযোগ জানাব। প্রার্থীরা জানাবেন। নির্বাচন কমিশন সেখানে কী ভূমিকা পালন করছে, তাদের অবস্থান কী—তার ওপর নির্ভর করবে আমাদের নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান।
নিজের আসনেও ভোট কারচুপি হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জুলাই চেতনাকে অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেব না, কোনো ধরনের ঋাড় দেওয়া হবে না।