বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা দেখিয়ে মূলত আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে। তারা নির্বাচনে দেওয়া ওয়াদাগুলো ভুলে গেছে। মঙ্গলবার সকালে বদরগঞ্জ কর্মিসভায় পৌর মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তাদের আচার-আচরণ দেখে মনে হয় না তারা আবার সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। তাদের কার্যকলাপে প্রমাণিত হচ্ছে তারা নির্বাচন চায় না। কারণ বিনা ভোটে তারা তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দিয়ে মূলত নির্বাচনের বিরোধিতা করছে। এ কারণে তাদের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা করা যায় না।
বদরগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা কামরুজ্জামানকে বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ঘোষণা দিয়ে এ টি এম আজহার নেতাকর্মীদের বলেন, ‘আমাদের পথ অনেক কঠিন। অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনি ওয়াদা ভুলে গিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই সামনের পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় নির্বাচনে আমরা প্রতিটি এলাকায় আমাদের নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘নেতাকর্মীদের সজাগ থেকে মানুষের ভালোবাসা আদায় করে জনগণের পাশে থেকে আমাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। কারণ শুধু এমপি দিয়ে হবে না, চেয়ারম্যান ও মেয়র স্থানীয় উন্নয়নে বড় একটি ভূমিকা পালন করে থাকেন। এ কারণে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে মেয়রও আমাদের দলীয় লোককে বানাতে হবে। তাই এখন থেকে জনগণের পাশে গিয়ে আমাদের লোকজনের পক্ষে ভোট চাইতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীদের দ্বারা কেউ যেন কোনো কষ্ট না পায়, বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।
দুর্নীতির বিষয়ে তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রধান সমস্যা হচ্ছে এখন দুর্নীতি। প্রতিটি স্তর দুর্নীতিতে ভরে গেছে। বিএনপি সেই দুর্নীতি লালন-পালন করছেন। এখনই যদি দুর্নীতিবাজদের লাগাম ট্রেনে ধরা না যায়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরো খারাপের দিকে যাবে। বিএনপির বর্তমান কার্যকলাপ দেখে ধরে নেওয়া যায়, তারা এ দেশ থেকে দুর্নীতিবাজদের কখনো লাগাম টেনে ধরতে পারবে না। কারণ তাদের মধ্যেই অনেক নেতাকর্মী সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সেই সুযোগে আমলারাও বেপরোয়াভাবে দুর্নীতি করে যাচ্ছে। আর এই দুর্নীতির কারণেই আমাদের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।’
চাঁদাবাজি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে চাঁদাবাজির সংখ্যা বেড়ে গেছে। তারা কোরবানির গরু থেকে গরু পরিবহনের ট্রাক এমনকি বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটেও চাঁদাবাজি করছে। চাঁদাবাজির কারণেই নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। মানুষ মনে করেছিল বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের দুর্নীতি কমে যাবে, আর কোথাও চাঁদাবাজি হবে না। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় বসে চাঁদাবাজ ও তাদের গডফাদারদের রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা জনগণের কথা ভাবছে না। পেপার-পত্রিকা খুললেই দেখা যাচ্ছে, প্রকাশ্যে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে আর সেই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত সরকারদলীয় লোকজন।’
এ টি এম আজহার বলেন, ‘বিএনপি এখনই যেভাবে তাদের ওয়াদাগুলো ভুলে গিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ অনুসরণ করছে, সে ক্ষেত্রে জনগণ মাঠে নামলে তারা কিন্তু আর টিকতে পারবে না। তারা কেন সব জেনেশুনে এমন করছে, বিষয়টি তারাই ভালো জানে। তবে আমরা বারবার সরকারি দলকে সতর্ক করছি, তারা যেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে সতর্ক থেকে দেশ পরিচালনা করে। তা না করলে আমরা অবশ্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হব।’
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল গনি এবং জেলা ও উপজেলা নেতারা।
এমই