গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সহ ৬ দফা দাবিতে আগামী শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে জোটটি। এই লংমার্চে কোন ধরণের বাধা বা উস্কানি না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পালনে সহযোগিতা করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। লংমার্চকে বাধাগ্রস্ত করা হলে সরকারের প্রতি জনঅনাস্থা আরো বাড়বে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
সোমবার বিকালে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই অনুরোধ জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জনদুর্ভোগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করায় সরকার ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। আস্থাহীনতার সংকট নিয়ে সরকারের গত ৬ মাস পার হয়েছে। এ অবস্থায় ৬ দফা জনগণের দাবি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য তথা বৃহৎ বিরোধীদলের কর্মসূচি হল- শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ। আমরা সুশৃঙ্খলভাবে এই কর্মসূচি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। এই প্রচেষ্টাকে সফল করার জন্য সহযোগিতা করতে সরকারের সব প্রশাসনের কাছে আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কমপক্ষে এই ছয় মাসে এই একটা কর্মসূচি সফলে সহযোগিতা দিয়ে প্রমাণ করুন যে, গণতন্ত্র ও গণমতের প্রতি নূন্যতম একটা আন্তরিকতার অবস্থান আছে। কিন্তু পথে পথে কোথাও যদি আমরা কোন বাধা, কোন ভয়, কোন নাশকতা বা কোনধরণের উস্কানি অনুভব করি, তাহলে আরেকবার প্রমাণিত হবে জুলাই অভ্যথানের যে মানবিক বৈষম্যহীন শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা আপনারা বলেছিলেন তা ঠিক রাখতে পারেনি। তাই প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ এসেছে যে, আপনারা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় সহযোগিতা করছেন।
গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, সংসদে বিরোধীদলের সঙ্গে কি ধরণের আচরণ করছেন, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হামলা ও অপদস্থ করছেন, তাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের প্রতিদান আপনারা দেবেন-সেই সংশয় কিন্তু কাটছে না। আশা করি গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে বিরোধীদলের এই লং মার্চকে বাধাগ্রস্ত করে কোন অশান্তি সৃষ্টি করবেন না। এ ধরণের কর্মসূচিতে সরকারের সহযোগিতা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লংমার্চে গাড়িবহরে এক লাখ লিটার জ্বালানী খরচের সমালোচনা করে সরকারের এক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাড়িতো রাস্তায় চলাচল করেই, এতে তেল খরচের হিসাব হাস্যকর। গাড়ী বন্ধ করেতো জ্বালানী সংকটের সমাধান করা যাবে না।
লংমার্চের প্রস্তুতি বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ৬ দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। দাবিগুলো হলো-অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন করা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
তিনি বলেন, রাজধানীর শাপলা চত্বরে সকাল ৭ টা থেকে ৮ পর্যন্ত বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে লংমার্চ বহরের যাত্রীর পাশাপাশি ঢাকাবাসীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখান থেকে ৮ টায় যাত্রা করে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজের পাশে ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা হবে। এরপর কুমিল্লার পদুয়াবাজার, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা হবে। সবশেষে লালদিঘি ময়দানে সমাবেশ। পথসভাগুলোতে ১১ দলের নির্ধারিত শীর্ষ নেতারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেবেন। এছাড়া অনির্ধারিত কিছু পথসভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পথসভাগুলো বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সংগঠন। লংমার্চ বহরের কোন যাত্রী সেখানে নামবেন না। শুধু নেতারা বক্তব্য দিতে নামবেন। খাবারের ব্যবস্থা নিজ দায়িত্বে করতে হবে। ঢাকা থেকে প্রায় এক হাজার গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু হবে এবং পথে আরো গাড়ি যুক্ত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, সর্বশেষ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে জোটের পক্ষ থেকে লংমার্চ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় আর তাদের এ ধরণের কর্মসূচির অভিজ্ঞতা নেই। তিনি বলেন, আমরা রাস্তার একপাশ ব্যবহার করবো। তারপরও সাধারণ যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হবে, এজন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে পথসভা সহ পথে পথে আমাদের জনশক্তি স্বাগত জানাবে। এতে কোন বাধা আসলে কঠিন প্রতিরোধ হবে। বাধা আসলে বাধবে লড়াই। এই লড়াইয়ে ১১ দলীয় ঐক্য জিতবে।
মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মোর্শেদ সিদ্দীকী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারাক হোসাইন ও ড. রেজাউল করিম, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।