ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সংসদে তিনি এ চ্যালেঞ্জ জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ৭০০ কোটি টাকার লোন কোনো একটি দলের নির্বাচনি ফান্ডে যাওয়ার কথা বলেছেন। উনি যদি এর দ্বারা জামায়াতে ইসলামীকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমি চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। এটা প্রমাণ করতে পারলে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি মেডেল দেব। কার ছেলে বা কার নাতি, চুরি-ডাকাতি বা অসততার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমি শফিকুর রহমান হলেও আমাকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়।
সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকের যাদেরকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সবাইকে চাকরি ফিরিয়ে দেতে তদন্তের দাবি জানাই। আর যাদেরকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের নিয়োগ কতটুকু সঠিক সেটারও তদন্ত করে দেখার দাবি করছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বোর্ড অব ডিরেক্টরের সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন তুলতে হয়, তবে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে ‘গ্রাহক’ সেজে আন্দোলন করাচ্ছে। বিরোধীদল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু বারে বারে এভাবে পর্দার আড়ালে ও পর্দার বাইরে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, নাবিল গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে, বিগত সময়ে নিয়ম না মেনে ব্যাংকটিতে যে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।