হোম > রাজনীতি > জামায়াত

আমরা আদর্শের লড়াই চাই, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়

ময়মনসিংহে জামায়াত আমির

ময়মনসিংহ অফিস

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচন যেন আর কোনো সহিংসতার কারণ না হয় এটাই সবার প্রত্যাশা। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, কোনো বোন বিধবা না হয়, কোনো সন্তান এতিম না হয়। আমরা চাই আদর্শের লড়াই হোক, হাতের বা অস্ত্রের লড়াই নয়।”

শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “যারা মানুষ হত্যা করে সংসদে যায়, তারা জনগণের জন্য কী করবে? মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষার দায়িত্ব নিয়েই তো সংসদে যেতে হয়। অথচ যদি সেই প্রতিনিধির হাতেই মানুষের ক্ষতি হয়, তাহলে সে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য নয়।”

সংসদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। “জনগণের করের টাকায় সংসদ পরিচালিত হয় প্রতিমুহূর্তে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। সেখানে অশালীন বাক্যবিনিময় বা সময় অপচয় নয়, বরং জনকল্যাণমূলক আইন প্রণয়নই হওয়া উচিত,” যোগ করেন তিনি।

উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে শেরপুর-৩ আসনে সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি স্মরণ করেন, এর আগেও একই এলাকায় নির্বাচনী সহিংসতায় উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন, যারা এখনও চিকিৎসাধীন।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনেও এক বয়স্ক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। “প্রথমে আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম, এমনকি সংসদেও তা উল্লেখ করেছি। তবে আল্লাহর রহমতে তিনি এখনো বেঁচে আছেন এবং জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন।

রাজনীতিতে সহিংসতার সংস্কৃতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অতীতেও সন্ত্রাস ও সংঘাত ছিল, কিন্তু এত রক্তের পরও যদি আমরা শিক্ষা না নেই, তাহলে তা দুঃখজনক। রাজনীতি হবে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু তা প্রকাশ হবে ভদ্রভাবে।”

স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেখানে শয্যা সংখ্যা এক হাজার, সেখানে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৭শ’ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। “জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে বারান্দা পর্যন্ত রোগীতে পরিপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে স্বাস্থ্যসেবায় আমরা জনগণের সঙ্গে সুবিচার করতে পারছি না। অথচ স্বাস্থ্যসেবা কোনো দয়া নয়, এটি নাগরিকের অধিকার,”। এ বিষয়ে সংসদে কথা বলারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে বরং তাদের ওপর জুলুম ও অপমান করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা কোনো সহিংস পথ বেছে নেব না। জনগণের অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাব, ইনশাল্লাহ।”

উল্লেখ্য, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় ওয়ার্ডের সমস্ত রোগীদের মধ্যে একবেলার খাবার সরবরাহের জন্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেনের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন জামায়াত আমির।

‘চাঁদাবাজরা একজন মানবিক চিকিৎসককেও সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হলো’

সাংগঠনিক দক্ষতা ও আদর্শিক চেতনা বিকাশে সামাজিক নেতৃত্বের আহ্বান

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশীদার হতে চাই: বীথিকা

শ্রমিকের সন্তানদের শিক্ষিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে

তেল আছে শুধু সংসদে: জামায়াত আমির

জ্বালানি সংকট কাটাতে স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে

আন্তর্জাতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারছে না দেশ: জামায়াত আমির

নির্বাচনের ভাগ্য পর্দার আড়ালে ব্লাকমেইলিং করা হয়েছে: বিরোধীদলীয় নেতা

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আদায়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে

বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচন বাতিল চায় জামায়াত