বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান ছাড়া কোরআনের হুকুম মেনে চলা যায় না এবং অন্যদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করা যায় না। মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে হলে বাস্তব জীবনের সর্বক্ষেত্রে কোরআনের হুকুম মেনে চলতে হবে। তা না হলে মৌখিক দাওয়াতে কোনো কাজ হবে না। সব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে হবে।
তিনি শনিবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে দিনব্যাপী ‘তা’লীমুল কোরআন’ বিভাগের জেলা ও মহানগরী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্য থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষদেরই নবী, রাসূল (সা.) ও পয়গম্বর হিসেবে বাছাই করেছেন এবং তাদের ওপর কিতাব নাজিল করেছেন। আল্লাহর দেয়া সেই কিতাব অনুযায়ী তারা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানানোর মাধ্যমেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর আল্লাহ পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। আল্লাহর কিতাব পবিত্র কোরআন আমাদের সহীহভাবে পড়া শিখতে হবে। মানুষ যখন আল্লাহর কিতাব মেনে চলেছেন তখন তারা দুনিয়াতে সম্মানের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করেছেন। যখন তার কিতাব থেকে মানুষ দূরে সরে গিয়েছে তখনই তাদের ওপর নানা বালা-মুছিবত এসেছে এবং মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে দুনিয়ায় লাঞ্ছিত, অপমানিত হয়েছে এবং বর্তমানেও হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে তারাই সর্বশ্রেষ্ঠ যারা নিজেরা কোরআন সহীহভাবে পড়ে এবং অন্যকে পড়ায় ও মেনে চলে। আপনারা যারা তা’লীমুল কোরআনের দায়িত্বে থেকে সহীহভাবে কোরআন পড়া শিখাচ্ছেন এবং মানার জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তারা অত্যন্ত ভাগ্যবান। আল্লাহ আপনাদের এজন্য উপযুক্ত পুরস্কার দিবেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাস্তব জীবনে সহীহভাবে অর্থসহ কোরআন পড়তে শেখা প্রত্যেকের জন্যই ফরজ। পবিত্র কোরআন সহীহভাবে পড়তে ও শিখতে হবে, বুঝতে হবে এবং মানতে হবে। তাহলেই আমাদের জীবন সার্থক হবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে আমরা মুক্তি পাব। এছাড়া মুক্তির আর কোনো পথ নেই।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, দায়িত্বশীলদের কোরআন শিখতে হবে ও শেখাতে হবে- স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্ব পালান করতে হবে। কোরআনের মর্যাদা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে তা’লীমুল কোরআনের কাজকে ব্যাপকতর করতে হবে।
বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনরারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দ্বীনের দাওয়াত মানুষের কাছে হৃদয়গ্রাহী করে পৌঁছানোর শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হলো আল কোরআন। তা’লীমুল কোরআনের কাজের মাধ্যমে নানা শ্রেণি পেশা ও ধর্ম-বর্ণের সকল মানুষের নিকট কোরআনের আহ্বান পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিভাগের সেক্রেটারি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের পরিচালনায় এবং অধ্যাপক ড. আবুল কালাম পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, তা’লীমুল কোরআন বিভাগীয় কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা আবদুল মান্নান, অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ড. মাওলানা মোজাম্মেল হক, মাওলানা একেএম শাহজাহান, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মাওলানা খায়রুল বাসার ও মাওলানা আব্দুর রহিম।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা বোরহান উদ্দিন, হাফেজ জাকির হোসাইন, মাওলানা শরীয়ত উল্লাহ ও নূরুল আউয়াল প্রমুখ।