বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেছেন, বাস-ট্রেনের অতিরিক্ত ভাড়া মেটাতে না পেরে মানুষ বাধ্য হয়ে মালবাহী ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছে। ফলে বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত ও নিহত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় মানুষের যে ভোগান্তি, তা নিরসনে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। ঈদুল ফিতরের মতোই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখেও মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হলেও সরকার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। জনগণকে স্বস্তি ও শান্তি দিতেও ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের উদাসীনতায় মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে চলছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুখ-সমৃদ্ধি, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। জামায়াতে ইসলামী কর্মী ও সুধীদের সহায়তায় ফান্ড গঠন করে ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জামায়াতে ইসলামীর চার দফা কর্মসূচির অন্যতম একটি সমাজ সংস্কার ও সমাজসেবা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের মানুষের প্রয়োজনে যেকোনো দুর্যোগ ও দুর্দিনে জামায়াতে ইসলামী সবার আগে, সবখানে ছুটে যায় এবং ভবিষ্যতেও যাবে।
রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অভাবে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে উল্লেখ করে সাংসদ নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কোনো সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়নি, নিতে পারেনি। ফলে সমাজের দরিদ্র শ্রেণির মানুষ দরিদ্রই রয়ে গেছে। অপরদিকে ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে। গরিব মারার বাজেট জনগণ আর চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ট্রেডিশনাল প্রক্রিয়ার বাজেট থেকে বেরিয়ে এসে জনবান্ধব বাজেট তৈরি করতে হবে। যে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ সুবিধাবঞ্চিত। যারা ক্ষমতায় আসে, তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ না করে ধনীদের আরও ধনী করার কাজ করে। সাধারণ মানুষকে শোষণ করে দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসকারী এস আলমকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী লীগের দোসর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর পলাতক খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা মেনে নিচ্ছেন না বলেই গ্রাহকেরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কিন্তু সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার এবং গ্রাহকদের মতামত উপেক্ষা করে এস আলমের উত্তরসূরিদের ইসলামী ব্যাংকে ঢোকাতে মরিয়া হয়ে উঠছে। তিনি ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের পথ থেকে সরে এসে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের দিয়ে ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংক পরিচালনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় মানুষের যে ভোগান্তি, তা নিরসনে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। মালবাহী ট্রাকে করে যাত্রী নেওয়া হলেও হাইওয়ে পুলিশ কিংবা ট্রাফিক বিভাগ দায়িত্ব পালন করছে কি না, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারের উদাসীনতায় মানুষকে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। চিহ্নিত সমস্যা সমাধানেও সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করতে না পারলে বিদায় নিয়ে জনগণকে মুক্তি দিন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খানের পরিচালনায় আয়োজিত ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, মহানগরীর সহকারী অফিস সেক্রেটারি মো. মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি সোহেল রানা মিঠু। এছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এআরবি