বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের বাজেটে সর্বদা শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হয়। এবছরের বাজেটে আমরা শ্রমিক বৈষম্যের অবসান চাই।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সবাই শ্রমিক অধিকারের কথা বললেও অতীতের সব সরকার শ্রমিকদের অধিকার হরণ করেছে, যার ফলে বিগত ৫৪ টি বাজেটেই শ্রমিকদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত শ্রমিকের বাজেট ভাবনা শীর্ষক প্রাক বাজেট মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাজেট হচ্ছে প্রশাসক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যকার একটি বার্ষিক অর্থনৈতিক চুক্তি, যা প্রতি বছর জাতীয় সংসদে পাস হয়। আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি সচল রাখার মূল শক্তি শ্রমিক সমাজ হলেও বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি বা শ্রমজীবী মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয় না এবং শ্রমিক কল্যাণ খাতে বরাদ্দও অত্যন্ত কম রাখা হয়।
তিনি মনে করেন, বাজেট যদি একপক্ষীয় না হয়ে শ্রমিক ও প্রশাসনের উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ করে প্রণয়ন করা হতো, তাহলে তা দেশের জন্য আরও কল্যাণকর হতো। শ্রমিকের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী ও হাদিস উল্লেখ করে বলেন, ইসলাম শ্রম ও শ্রমিককে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে; মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকের পরিশ্রমে কালো হয়ে যাওয়া হাত চুম্বন করে বলেছেন, ‘কাজের হাতই শ্রেষ্ঠ হাত।’ তিনি বলেন, শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশ ৫৪টি বাজেট দেখেছে এবং আগামী বাজেট পেশ হলে তা হবে ৫৫তম বাজেট। তিনি সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, সেখানে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে আজও শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫৪ বছরেও শ্রমিকদের জন্য বাজেটে ১ শতাংশ বরাদ্দও নিশ্চিত করা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দেওয়া ১৪৯ জন শ্রমিকের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই বৈষম্য এখনো অব্যাহত রয়েছে। নতুন সরকারের কাছে তিনি বৈষম্যহীন বাজেট প্রত্যাশা করেন এবং বলেন, গত পাঁচ বছরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে, অথচ দেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন শ্রমিক যুক্ত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য আনুপাতিক হারে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা জরুরি। তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী জাতীয় বাজেটে অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান।
এএস