হোম > রাজনীতি > এনসিপি

ভারতে হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের হুমকি: এনসিপি

স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গতকাল ভারত থেকে যে সংবাদ সম্মেলন করা হলো, আমরা এটাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের একটি শক্তির হস্তক্ষেপকে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছি। ভারত সরকার এখানে শেখ হাসিনাকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের পর হাসিনা প্রথম রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিলেন। এর আগে তিনি কোনো ফরমাল (আনুষ্ঠানিক) সাক্ষাৎকার দিতে পারেননি। গতকাল আমরা প্রথম শুনলাম যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আসবেন। পরে শুনলাম অনলাইনে আসবেন। পরে দেখলাম চেহারাও দেখানো হলো না। ভয়েস (কণ্ঠ) আসল। যখন কেউ চেহারা দেখাচ্ছে না, সামনেও আসছে না, তখন তো সন্দেহ জাগে যে, বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। এআই জেনারেটেড কি না, সেই সন্দেহ জাগে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও গ্লোবাল ডায়াসপোরা সেলের প্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।

তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকীর মতো একটি ঐতিহাসিক ও জাতীয় গুরুত্ববহ দিনে সার্বভৌম বাংলাদেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাসিনা ও তার সহযোগীদের নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় নয়াদিল্লি তার বাংলাদেশ নীতি আবারো স্পষ্ট করেছে যে, তারা বাংলাদেশের বা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে নয়; তারা তাদের তাঁবেদার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক দিয়েই বাংলাদেশকে দেখতে চায়।

ভারতের উদ্দেশে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, আপনারা বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত ও নিষিদ্ধ গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে, তাদের পক্ষাবলম্বন করে বাংলাদেশের জনগণকে আপনাদের প্রতি চিরন্তন ঘৃণার দিকে ঠেলে দেবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য, সমন্বিত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী প্রক্রিয়া প্রত্যাশা করে, যা রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করবে। এই প্রশ্নকে কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য বা কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট দায়িত্বশীলতা।

এনসিপির অবস্থান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা গণতন্ত্র, জবাবদিহি এবং সব ধরনের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির সম্পূর্ণ বিলোপ বা অবসানের পক্ষে। আমরা শেখ হাসিনাকে কোনো দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সমীকরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতা করি এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিচারিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন যেকোনো সমঝোতা বা ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি বিশ্বাস করে, প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্টকারী ও জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিত না করে পুনরায় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ দেওয়া চলবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহিন সরকার, ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ।

জেডএম

আ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদ

এনসিপির সুপার সিক্সটিন কী, কারা আছেন

ভারতের মুসলিমদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

এনসিপির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ধারাবাহিকতায় আসামে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও মসজিদে ধ্বংসযজ্ঞ

আসামে ১১০০ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, ১০ মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় ওলামা অ্যালায়েন্সের নিন্দা

ক্ষমতাহীন নাগরিকই ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজির শিকার: হাসনাত আবদুল্লাহ

জুলাই শহীদ রিয়া গোপের পরিবারের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের সাক্ষাৎ

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার বলি ইশরাক হোসেন’

‘নিজের ছেলে লন্ডনে পড়ে, পরের ছেলে রাস্তায় মরে’