মহান স্বাধীনতা দিবসের বাণীতে নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আজকের এই মহান দিনে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার– শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে আমরা গড়ে তুলবো একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা। দুর্নীতি, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশের পথে–যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত থাকবে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার দেওয়া বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি। এতে স্বাধীনতার ৫৫তম বর্ষপূর্তিতে দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আমাদের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবময় ও আত্মমর্যাদার দিন। গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহিদকে, যাদের অমর আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের, যাদের ত্যাগ ও সাহস আমাদের জাতীয় ইতিহাসকে করেছে আরও মহিমান্বিত।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা কেবল একটি ভূখণ্ডের অর্জন নয়; এটি ছিল ন্যায়, সাম্য, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই অঙ্গীকার আজও পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে এই জাতির ওপর বারবার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার শাসন। রাষ্ট্রকে দুর্বল করে বিদেশি শক্তির কাছে নতজানু করার অপচেষ্টাও হয়েছে বহুবার।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তবুও এই ভূখণ্ডের মানুষ কখনো পরাজয় মানেনি। প্রতিবারই অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে জেগে উঠেছে জনতা। সবশেষ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহিদের আত্মদানের বিনিময়ে স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে জাতি। একইসঙ্গে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় আত্মমর্যাদা ফেরত এসেছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান– মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের আকাঙ্ক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে সত্য, ন্যায়, সাহস ও দেশপ্রেমের আদর্শে আমরা নিজেদের গড়ে তুলবো। আমাদের হাতেই রচিত হবে আগামীর বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, নাগরিক সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করি।