২৩ সদস্যের সাংগঠনিক উপকমিটি গঠন
জুলাই বিপ্লবের তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পুনর্গঠিত হচ্ছে। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা এবং দায়িত্ব বণ্টনের রূপরেখা দলের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ২৩ সদস্যের সাংগঠনিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘চরম অবনতি এবং দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও দখলবাজির’ বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে বৈঠক সূত্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও মিডিয়াবিষয়ক উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার আমার দেশকে বলেন, বৈঠকে রাজনৈতিক পর্ষদসহ দলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টনের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যদের বিভিন্ন উপকমিটির প্রধান করা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা এসব উপকমিটির বিভিন্ন পদে থাকবেন। বৈঠকে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকবেন সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাত।
এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ২৩ সদস্যের সাংগঠনিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে। রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজনকে এই উপকমিটির উপপ্রধান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক থাকবে।
বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও দখলবাজির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মহানগর, জেলা ও উপজেলা কমিটিকে তাদের স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী কর্মসূচি ঠিক করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে বিক্ষোভ, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা জানানো হবে।
এছাড়া দেশের সব জেলায় জেলা কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে অক্টোবরের মধ্যে সব উপজেলা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এনসিপির কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীরা সমঝোতা করলেও আপত্তি থাকবে না এনসিপির।
গণভোটের গণরায় অগ্রাহ্য করে সরকার ‘প্রহসনমূলক’ সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটির নেতারা বলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল ধরিয়েছে। একদলীয় এই কমিটির কোনো গণবৈধতা নেই বলেও বৈঠকে মত দেওয়া হয়। এ দায় সরকারকে নিতে হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।