নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জোট গঠন করলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই চলমান। ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা।
শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে এনসিপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় ৩৬ দফা ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ২০২৪-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে। সেই দল একটি জোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এখানে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো পুরো এনসিপির যাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু করি, তখন কিছু প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণাপত্র দিয়ে শুরু করেছিলাম।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আমাদের দলের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমাদের চিন্তা ও আদর্শের জায়গাটাও তৈরি হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে।
নাহিদ বলেন, আমরা আগস্টে শহীদ মিনারে স্পষ্টভাবে কয়েকটি কথা বলেছিলাম—ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা। গত ১৬ বছরে এবং স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তার কারণেই আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রে পৌঁছাতে পারিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ২৪-এর প্রজন্ম একটি নতুন প্রজন্ম হিসেবে বাংলাদেশে আবির্ভূত হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এই প্রজন্মকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই আমাদের ভাবনা। তাই তারুণ্য আমাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। দ্বিতীয়টি হলো মর্যাদা বা ডিগনিটি। ফ্যাসিবাদের সময় নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা বারবার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। মানুষের ন্যূনতম মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার আমরা গত ১৬ বছর পাইনি।