হোম > রাজনীতি > এনসিপি

ইতিহাসে আর কোনো সরকার দুই মাসে এতটা অজনপ্রিয় হয়নি: নাহিদ ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে সারা দেশ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাইয়ের আহত কয়েক হাজার যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে, বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ প্রতিজ্ঞা করেছিল এদেশে আর কখনো স্বৈরতন্ত্র ফেরত আসতে দেয়া হবে না। এজন্য দেশে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচ তারিখের পর থেকেই প্রতি পদে পদে বিএনপি সংস্কারে বাধা দিয়ে এসেছে। একটা পর্যায়ে তাঁরা ঐকমত্য কমিশনে আসে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনে এসেও তারা প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করে অসম্মতি জানিয়ে এসেছে।

জনগণের গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পরপরই বিএনপি গণভোটকে অস্বীকার করতে শুরু করেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে সেই বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের পরে গণভোটকে অস্বীকার করছে। এর মাধ্যমেই বিএনপি মূলত তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগে পথে হাঁটালে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি যে নতুন করে দলীয়করণ করছে, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পথেই বিএনপি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের পথে, পুরোনো স্বৈরাচারের পথে এ দেশকে এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবারও রুখে দাঁড়াবে। এদেশের তরুণ সমাজ আবারও রুখে দাঁড়াবে। গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া ছাত্র জনতা আবারও রাজপথে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, 'বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড কৃষক কার্ড দিয়ে জনগণকে ভোলানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই কার্ড দিতে দিতে তাদের জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে, তেল ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছে কোন জ্বালানি সংকট নাই। বাস্তব সমস্যাতে অস্বীকার করছে, অর্থনৈতিক সমস্যা কে অস্বীকার করছে। দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে সেটাকে অস্বীকার করছে। আমরা সর্বাত্মকভাবে এ সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলাম, দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে। কিন্তু সরকার সহযোগিতা নেয়ার সকল দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।

আমার জানা নেই, যারা মুরুব্বি আছেন তারা বলতে পারবেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোন সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কিনা। আমরা জানি না আগামী ছয় মাসে তাদের কি পরিণতি হবে। আমরা কোন অস্থিতিশীলতা চাই না আমাদের দাবি একটাই, গণভোটের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সম্মান দেয়া, শহীদ পরিবারকে সম্মান দেয়া। আমরা সেটার জন্য রাজপথে এবং সংসদে আছি। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এই দাবি আদায় করে ছাড়বো, ইনশাল্লাহ।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে বিএনপি

যে সিস্টেমটা ভাঙা হয়েছে সেটাকে আর ফিরতে দিও না

প্রয়োজনে সংসদ আর রাজপথ একাকার হয়ে যাবে: নাহিদ ইসলাম

ক্যাম্পাসগুলোতে ফের ক্ষমতার রাজনীতি মাথাচাড়া দিচ্ছে

ছাত্রলীগের মতো ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের রাজত্ব দেখছি: আসিফ মাহমুদ

এনসিপিতে যোগ দিয়েই সরকার পতনের হুঁশিয়ারি দিলেন ইসহাক

ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে রাজপথে প্রতিরোধ

এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে জনগণ: নাহিদ ইসলাম

এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক, ফ্লোরা, রনি ও কাফি

শুক্রবার এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ইসহাক সরকার, পদ ছাড়ছেন আলাউদ্দীন মোহাম্মদ