ময়মনসিংহে আসিফ মাহমুদ
গত তিনটি নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেন নাই। আগামী নির্বাচনে শুধু নিজের ভোট নিশ্চিত করলে হবে না বরং সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকারও রক্ষা করতে হবে বলেও আহ্বান করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ । তিনি বলেন,দ সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।
শনিবার ( ৩১ জানুয়ারি) ময়মনসিংহের ভালুকা শহীদ মিনারে এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রার এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারিত হবে। ভালুকায় বন উজাড় করে জমি দখল করছে। ভালুকায় শিল্প কলকারখানা হলেও কর্মসংস্থান বাড়ছে না। এখানে চিকিৎসা, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। ভালুকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ধনীদের আরও ধনী করার জন্য। আমরা কাজ করার সুযোগ পেলে সম্পদের সুষম বণ্টন করব ইনশাআল্লাহ। ভালুকার সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ নির্যাতিত নিষ্পেষিত হয়েছে। আমরা এমন ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে আর চাই না। এগারো দলীয় ঐক্য জোটের অনেক প্রার্থী নিজেদের স্বার্থ ছেড়ে দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে। এবার দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা যেমন বাংলাদেশ দেখতে চান, তেমন প্রতিনিধি নির্বাচন করুন। আশা করছি আপনারা সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করবেন ইনশাআল্লাহ।
ময়মনসিংহ এগারো আসনের এগারো দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, আমাদের এগারো দলীয় ঐক্য জোটের স্লোগান হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আগামীর বাংলাদেশ কিভাবে গড়ে উঠবে তার রূপরেখা দেওয়া। ভালুকার জামায়াতের প্রার্থী পাঠান ভাই জাতীয় স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করেছে। আমরা ভারত নয় বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে চাই। আমরা চাই কৃষকের অধিকার, মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। ইন্ডাস্ট্রি যেমন দরকার, তেমনি কৃষকের জন্য চাষের জমি দরকার। আমরা এই বিষয়ে সমন্বয় করব ইনশাআল্লাহ। আমরা মনে করি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি জনগণের কর্মচারী। আমরা আপনাদের কর্মচারী হিসেবে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।
ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আব্দুল করিম বলেন, বাংলাদেশের ৫৪ বছর অতিক্রম করেছি, সেই পিছনে আর ফেরত যেতে চাই না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি মুক্ত করে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এই নির্বাচনে এগারো দলীয় ঐক্য জোটকে নির্বাচিত করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে ।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন বলেন, আমরা এই সমাবেশ থেকে আরও একটা বার্তা দিতে চাই , রাজনৈতিক কারণে কোন সংখ্যালঘুর উপর হামলা করা হয়, তাহলে বিশেষ মানবাধিকার সেলের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশ আর কখনো গোপালগঞ্জ বা বগুড়ার দিকে যাবে না, বাংলাদেশ এখন বাংলাদেশ পন্থার দিকে যাবে ইনশাআল্লাহ। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।
জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তরিকুল ইসলাম বলেন, গত দুই মাস গণভোটের হ্যাঁ এর পক্ষে কোন প্রচার প্রচারণা করে নাই। গণ রোষের মুখে পড়ে এখন হ্যাঁ ভোটের কথা বলছে। এগারো দলীয় ঐক্য জোট যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে সংস্কার কার্যক্রম সফল করব ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমানের ধানের শীষ ও বিএনপি সাপের বিষে পরিণত হয়েছে। আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারী এই সাপের বিষকে মানুষ প্রত্যাখান করবে। তারা বলছে আই হ্যাভ আ প্ল্যান আছে। কিন্তু তাদের প্ল্যান হচ্ছে ভোট কেন্দ্র দখলের প্ল্যান। হিন্দুদের ধানের শীষে ভোট দিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা নারীদের গায়ের কাপড় খুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নারীদের উপর কোন হামলা করলে এখন থেকে প্রতিরোধ করতে হবে। আপনারা নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দিয়ে নিজেদের ভোট বুঝে নিবেন।
এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রার ভালুকা পথসভায় আরও জামায়াতে ইসলামী ভালুকা উপজেলার আমির সাইফুল্লাহ পাঠান ফজলু, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, এনসিপির ময়মনসিংহ জেলার সদস্য ইকরাম ইলাহি সাজ প্রমুখ।