হোম > ধর্ম ও ইসলাম

মহানবীর (সা.) মহানুভবতা

মাওলানা মুহাম্মাদ আজিজুল হক

মহানবী (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। যে চরিত্র কোরআনের বাস্তব রূপ। মহানবীর দয়া ও ক্ষমা, মহানুভবতা এবং সহিষ্ণুতার দৃষ্টান্ত অসংখ্য। কয়েকটি তুলে ধরছি-

এক.

তখন আরব দেশের চারদিকে শুধুই মরুভূমি। সূর্যের তাপে মরুভূমির বালুরাশি আগুনের মতো তপ্ত হয়ে ওঠে। এমনি প্রখর রোদে একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) যুদ্ধের অভিযান থেকে প্রত্যাবর্তনকালে দ্বিপ্রহরের সময় একটি বাবলাগাছের শাখায় তরবারি ঝুলিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। সেই সুযোগে এক কাফের বেদুইন নবীজির ওপর ওই তরবারি কোষমুক্ত করে মহানবীকে লক্ষ করে বলল, ‘হে মুহাম্মদ! বলো, এখন আমার হাত থেকে তোমাকে কে রক্ষা করবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ। এতে তার হৃদয় কম্পন শুরু হলো এবং কাঁপতে কাঁপতে হাত থেকে তরবারি পড়ে গেল। এবার রাসুল (সা.) তরবারি নিজ হাতে তুলে নিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, বলো, এখন তোমাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে? লোকটি নিজের কৃত অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চাইল। নবীজি (সা.) তাকে তখনই ক্ষমা করে দিলেন।’ (বুখারি : ২৯১০)

দুই.

জায়েদ নামক এক ইহুদি মহানবীর সঙ্গে একটি অগ্রিম কেনাবেচা করল। এরপর নির্ধারিত সময়ের দু-তিন দিন আগেই সে এসে মাল পরিশোধ করার জন্য জোর দাবি করল। এমনকি রাসুলের চাদর টেনে তার সঙ্গে বেয়াদবি করল। বিকৃত চেহারায় রূঢ় কণ্ঠে নবীজির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হে মুহাম্মদ! আমি তোমাকে চিনি। তোমরা আবদুল মুত্তালিবের বংশধর, বড় টালবাহানাকারী।’ সেখানে উপস্থিত ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। নবীজির সঙ্গে লোকটির এই বেয়াদবিপূর্ণ আচরণ দেখে তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে তাকে সজোরে ধমক দিলেন। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন পূর্ণ শান্ত। তিনি উমর ফারুককে বললেন, হে উমর! আমি ও এই ব্যক্তি তোমার থেকে অন্যরূপ আচরণ পাওয়ার আশাবাদী ছিলাম। তোমার উচিত ছিল তুমি আমাকে সত্বর তার প্রাপ্য আদায় করার পরামর্শ দিতে আর তাকে কথায় ও আচরণে নম্রতা অবলম্বনের মাধ্যমে ঋণের পাওনা তলব করতে তাগিদ দিতে। অতঃপর রাসুল (সা.) তাকে লোকটির প্রাপ্য পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং আরো ২০ সা বেশি দিতে বলেন, যা ছিল উমর (রা.) কর্তৃক লোকটিকে ধমক দেওয়ার বদলা। ইসলামের নবীর এই সহিষ্ণু আচরণে মুগ্ধ হয়ে লোকটি ইসলাম গ্রহণ করেন। (মুসনাদে আহমাদ : ৩/১৫৩)

তিন.

মক্কায় ১৩ বছর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েও মক্কা বিজয়ের পর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। (আর রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা : ৪০৫)

চার.

জাদুর কারণে মৃত্যুর মুখে পতিত নবী (সা.) সুস্থ হয়ে সেই জাদুকর ইহুদিকে ক্ষমা করে দেন। (বুখারি : ৫৭৬৩)

মাসআলা

দুধ-মাকে জাকাত দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন : আমার দূরসম্পর্কের একজন চাচি আছেন। যিনি ছোটবেলায় আমাকে দুধ পান করিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বিধবা। আর্থিকভাবেও খুবই কষ্টে আছেন। তাই আমি তাকে জাকাতের টাকা দিয়ে সহায়তা করতে চাচ্ছি।

জানতে চাই, দুধ-মাকে কি জাকাতের টাকা দেওয়া যায়? তাকে কি আমি আমার জাকাতের টাকা দিতে পারব?

আবু সুফিয়ানÑনোয়াখালী

উত্তর : দুধ-মাকে জাকাত দেওয়া জায়েজ আছে। তাই আপনার ওই দুধ-মা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে আপনি তাকে নিজের জাকাতের টাকা দিতে পারবেন।

-কিতাবুল আছল ২/১২৪; আলমাবসুত, সারাখসি ৩/১১; আলহাবিল কুদসি ১/২৯৮; আলমুহিতুল বুরহানি ৩/২১২; মি’রাজুদ দিরায়া ২/৭৬২; ফাতহুল কাদির ২/২০৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬

উত্তর প্রদান-মুফতি আবুল হাসান আব্দুল্লাহ

জিকিরে সজীব রোজাদার

সপ্তম তারাবি: হিজরত, নুসরত ও জিহাদ

ষষ্ঠ তারাবি: শয়তান উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথ দেখায়

তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াত রবের সঙ্গে একান্ত আলাপন

পঞ্চম তারাবি: জীবন মরণ সবই আল্লাহর জন্য

মাহে রমজানে নবজীবনে আহ্বান

চতুর্থ তারাবি: আল্লাহর অবাধ্যতা আজাব ও অভিশাপ ডেকে আনে

রোজার গুরুত্বপূর্ণ আমল সাহরি ও ইফতার

মাদক নির্মূল করতে পারলে প্রশাসনকে পুরস্কৃত করা হবে: ধর্মমন্ত্রী

তারাবির নামাজ নিয়ে আজহারীর বিশেষ বার্তা