হোম > ইসলাম ও জীবন

অবচেতন মনের শক্তি

আমার দেশ অনলাইন

নিজের চিন্তা, বিশ্বাস ও অবচেতন মনের শক্তি নিয়ে লেখা জনপ্রিয় বই ‘দ্য পাওয়ার অব ইওর সাবকনশাস মাইন্ড’। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে ধারণাগুলো বিশ্লেষণ করা । বইটির উপকারী দিক গ্রহণের পাশাপাশি ইসলামের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ধারণাগুলো নিয়ে সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছেন লেখক সুমনা সাদাকাত।

জোসেফ মারফির লেখা ‘দ্য পাওয়ার অব ইওর সাবকনশাস মাইন্ড’ বইটি নিয়ে ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ আহ্বান জানান তিনি। মুসলিমম্যাটার্সে প্রকাশিত নিবন্ধটির শিরোনাম ‘আ কেস ফর ক্রিটিক্যাল রিডিং অ্যাজ মুসলিমস: রিডিং দ্য পাওয়ার অব ইওর সাবকনশাস মাইন্ড থ্রু অ্যান ইসলামিক লেন্স’।

১৯৬৩ সালে প্রকাশিত বইটি আত্মোন্নয়ন ও নিউ থট ধারার একটি প্রভাবশালী রচনা। এতে চিন্তা, আত্মবিশ্লেষণ, বিশ্বাস, কৃতজ্ঞতা, প্রার্থনা এবং মানসিক অভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যা অবচেতন মনে বারবার গেঁথে দেওয়া বিশ্বাস মানুষের আচরণ, সম্পর্ক, পরিস্থিতি ও আত্মপরিচয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

বইটির কিছু ধারণার সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার মিল থাকলেও দুইয়ের ধর্মতাত্ত্বিক ভিত্তি এক নয়। তাই মুসলিম পাঠকদের উচিত কোনো অমুসলিম লেখকের বইকে অন্ধভাবে গ্রহণ বা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান না করে, উপকারী দিকগুলো গ্রহণ করা এবং নিজেদের বিশ্বাসের সঙ্গে অসংগত ধারণাগুলো যাচাই করে দেখা।

অবচেতন মনের ক্ষমতা বনাম আল্লাহর ওপর নির্ভরতা

মারফির বইয়ে অবচেতন মনকে মানুষের জীবনের পরিস্থিতি ও ফলাফল পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষের চিন্তা ও মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো বাস্তবতা সৃষ্টির স্বতন্ত্র ক্ষমতার অধিকারী নয়।

ইসলামে সর্বময় ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর। মানুষের রয়েছে নিয়ত, সিদ্ধান্ত ও কাজের দায়িত্ব। এ কারণে ইতিবাচক চিন্তা মানুষের আচরণ ও প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু শুধু চিন্তার জোরে কাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা নিশ্চিত করা যায়—এমন ধারণাকে ইসলামি বিশ্বাসের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।

দুঃখ-কষ্ট মানেই নেতিবাচক চিন্তা নয়

মারফির ধারণার একটি সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে সুমনা সাদাকাত বলেন, মানুষ আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করা, প্রার্থনা করা ও ইতিবাচক ফল কল্পনা করার পরও নানা বিপদের মুখোমুখি হতে পারে। এ অবস্থায় সব প্রতিকূলতার কারণ ব্যক্তির নেতিবাচক চিন্তা বা দুর্বল বিশ্বাসকে ধরে নেওয়া সমস্যাজনক।

ইসলামে দুঃখ-কষ্টকে পরীক্ষা, ধৈর্য, তাকদির ও আল্লাহর প্রজ্ঞার আলোকে বিবেচনা করা হয়। কোনো মানুষ বিপদে পড়লেই যে তার বিশ্বাস বা চিন্তায় ঘাটতি রয়েছে, তা নয়। বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং সৎকাজ চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা রয়েছে ইসলামে।

ইতিবাচক চিন্তা ও আশাবাদ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার অর্থ এই নয় যে, সবকিছু মানুষের ইচ্ছামতো ঘটবে। ইসলামের আশাবাদ মূলত আল্লাহর রহমত ও প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রার্থনা কেবল মানসিক কৌশল নয়

বইটিতে প্রার্থনা, ইতিবাচক বাক্য বারবার বলা এবং কাঙ্ক্ষিত ফল কল্পনা করার মাধ্যমে অবচেতন মনকে প্রভাবিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইসলামি দৃষ্টিতে দোয়া শুধু মনকে কোনো নির্দিষ্ট ফলাফলের জন্য প্রস্তুত করার কৌশল নয়; এটি আল্লাহর কাছে চাওয়া, তার ওপর নির্ভর করা এবং তার সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের অংশ।

একজন মুসলিম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন, তার রহমতের আশা রাখবেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে চেষ্টা করবেন। তবে ফলাফল কখন, কীভাবে কিংবা কোন রূপে আসবে, তা শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে প্রার্থনা যেন বাস্তব প্রচেষ্টার বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। দোয়া, তাওয়াক্কুল ও কর্মপ্রচেষ্টা পরস্পরের পরিপূরক।

কৃতজ্ঞতা, আত্মশুদ্ধি ও ইতিবাচক চিন্তা

বইটির কয়েকটি ধারণার সঙ্গে ইসলামি শিক্ষার মিলও তুলে ধরেছেন সুমনা সাদাকাত। এর মধ্যে রয়েছে কৃতজ্ঞতা, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া, আত্মশুদ্ধি এবং নিজের মানসিক জগতের যত্ন নেওয়া।

তবে ইসলামে কৃতজ্ঞতা শুধু ভালো অনুভূতি তৈরি করার মানসিক অনুশীলন নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত স্বীকার করা এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনার বিষয়। একইভাবে অতীতের ভুলের জন্য অনুশোচনা থেকে মুক্তি পাওয়ার অর্থ ভুলকে অস্বীকার করা নয়। ইসলামে তওবার মাধ্যমে ভুল স্বীকার, ক্ষমা প্রার্থনা এবং সম্ভব হলে ক্ষতি পূরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

লেখকের মতে, নিজের প্রতি সদয় হওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অর্থ নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং ভুল থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর রহমত সম্পর্কে নিরাশ না হওয়াই ইসলামের শিক্ষা।

নিজের যত্ন ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য

আত্মযত্নের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দৈনন্দিন দায়িত্ব, পরিবার ও অন্যদের দেখাশোনা করতে গিয়ে নিজের মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার কথা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিজের অন্তর্জগতের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার ধারণাকে ইতিবাচক।

তবে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে নিজের যত্ন, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক—কোনোটিকেই অন্যটির বিপরীতে দাঁড় করানো হয় না। বরং এসব দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্ধ অনুসরণ নয়, সমালোচনামূলক পাঠ

মুসলিম পাঠকদের জন্য ভিন্ন ধর্মীয় বা দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির বই পড়ার ক্ষেত্রে অন্ধ সমর্থন কিংবা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান—কোনোটিই একমাত্র পথ হওয়া উচিত নয়। বরং যুক্তি দিয়ে পড়া, উপকারী ধারণা চিহ্নিত করা এবং নিজস্ব বিশ্বাসের সঙ্গে অসংগত বিষয়গুলো যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

চিন্তা মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিয়ত, কাজ, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর ওপর ভরসার বিষয়গুলোও সমান তাৎপর্যপূর্ণ।আত্মবিশ্লেষণের যাত্রা যেন শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ও নৈতিক দায়িত্ববোধকে আরও গভীর করে—এটাই ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

বিমানবন্দরে বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হাফেজ ইহতিশামুল হক হিরাকে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করায় এহতিশামুলকে জামায়াতের অভিনন্দন

নামের আগে ‘শায়খ’ কেন, জানালেন আহমাদুল্লাহ

ইমাম গাজ্জালীর আত্মশুদ্ধির দর্শন

ইসলামের শিক্ষা সম্পদের সঠিক ব্যবহার

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইসলাম

কেন ধর্ম উপদেষ্টা ও বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে রাজি হননি শায়খ আহমাদুল্লাহ

ইলম ও খেদমতের অনন্য নাম মাওলানা উবায়দুল হক, হারানোর ১৯ বছর আজ

পাওনাদারকে খুঁজে না পেলে কীভাবে ঋণ শোধ করবেন, ইসলাম কী বলে