ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এক আনন্দের দিন। এই বিশেষ দিন শুধু উৎসবের নয়, বরং ইবাদতেরও অংশ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন বেশ কিছু আমল করতেন, এই আমলগুলো আমাদের জন্য সুন্নত। এই সুন্নতগুলো পালনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে ইবাদতে পরিণত করা সম্ভব।
গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
ভোরে ঘুম থেকে ওঠা
ঈদের দিন দ্রুত ঘুম থেকে ওঠা সুন্নত। এরপর মেসওয়াকসহ গোসল করে সুন্নত পদ্ধতিতে পবিত্রতা অর্জন করা। পরিচ্ছন্নতা মুমিনের ইমানের অঙ্গ আর ঈদের দিনে পরিচ্ছন্নতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ভালো পোশাক পরা
ঈদের খুশির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে ভালো ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা সুন্নত। ঈদের দিনের পোশাক নতুন হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত হওয়া জরুরি।
সুগন্ধি ব্যবহার করা
ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা সুন্নত। সুগন্ধ চারপাশের পরিবেশকে স্নিগ্ধ ও আনন্দময় রাখে।
কোরবানির আগে কিছু না খাওয়া
ঈদুল ফিতরে কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত হলেও ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে নিয়মটি ভিন্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল আজহার দিন নামাজের আগে কিছু খেতেন না। নামাজ শেষে নিজের কোরবানির পশুর গোশত দিয়ে খাবার গ্রহণ করা সুন্নত।
পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
কোনো শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত পায়ে হেঁটেই ঈদগাহে যেতেন।
তাকবির পাঠ করা
ঈদুল আজহার দিন বাসা থেকে ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবির (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ) পাঠ করা সুন্নাত।
যাতায়াতের রাস্তা পরিবর্তন করা
ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং ফেরার সময় অন্য রাস্তা ব্যবহার করা একটি বিশেষ সুন্নত। এর ফলে কিয়ামতের দিন উভয় রাস্তা ইবাদতের সাক্ষী হয়ে থাকবে এবং বেশি মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।
ঈদগাহে নামাজ আদায় করা
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কোনো কারণ ছাড়া মসজিদে ঈদের নামাজ না পড়ে খোলা ময়দান বা ঈদগাহে নামাজ আদায় করা সুন্নাত।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়
ঈদের নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা। সাহাবায়ে কেরামরা সাধারণত ‘তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (আল্লাহ আমাদের ও আপনার ইবাদত কবুল করুন) বলে একে অপরকে অভিনন্দন জানাতেন।