হোম > ইসলাম ও জীবন

দুর্গত মানুষের সেবায় আলেমসমাজ

মুফতি উবায়দুল হক খান

দুর্গত-মানুষের-সেবায়-আলেমসমাজ

ইসলামের ইতিহাসে আলেমদের মানবসেবার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ক্ষুধার্তকে খাদ্য দিয়েছেন, এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, অসুস্থদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সমাজের দুর্বল মানুষের আশ্রয়স্থল হয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) গোপনে অসংখ্য দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতেন। ইমাম নববি (রহ.) ও অন্যান্য মনীষীও ইলমের পাশাপাশি সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের জীবন প্রমাণ করে, প্রকৃত আলেম কখনো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নন; বরং তিনি সমাজের কল্যাণকামী অভিভাবক।

বাংলাদেশেও আলেমসমাজ দীর্ঘদিন ধরে মানবসেবার অনন্য নজির স্থাপন করে আসছেন। দেশের হাজারো কওমি মাদরাসায় লক্ষাধিক এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থী বিনা খরচে বা অতি স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা, আবাসন এবং খাবারের সুযোগ পাচ্ছে। এটি শুধু শিক্ষাসেবা নয়; বরং একটি বিশাল মানবিক কর্মযজ্ঞ। জাকাত, সদকা, ফিতরা ও মানুষের দানের অর্থে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান সমাজের অসহায় মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আছে।

দুর্যোগকালীন সময়েও আলেম সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড কিংবা শীতপ্রবাহে তারা ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। দেশের বিভিন্ন ইসলামি দাতব্য সংস্থা ও আলেমদের পরিচালিত ফাউন্ডেশনগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, শীতবস্ত্র এবং নগদ সহায়তা পৌঁছে দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করছে। বর্তমান সময়ে আলেমদের পরিচালিত মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একটি উল্লেখযোগ্য নাম। শায়খ আহমাদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি দাওয়াতি কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাপক পরিসরে মানবকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ, রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসামগ্রী ও নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া এতিম প্রতিপালন, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পুনর্বাসন, ঘর নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, মসজিদ নির্মাণ, কোরবানির মাংস বিতরণ, রমজানে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা মানবিক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে পরিচালিত এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে, আলেমদের নেতৃত্বে আধুনিক ও সুসংগঠিত মানবসেবা কতটা কার্যকর হতে পারে।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি দেশের আরো উলামায়ে কেরাম পরিচালিত অনেক প্রতিষ্ঠান নীরবে মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। যেমন মাওলানা গাজী ইয়াকুব পরিচালিত তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশন, মাওলানা রজীবুল হক পরিচালিত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন, মাওলানা ইমরান হাবিবি পরিচালিত পিপলস ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং হাফেজ্জী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনসহ অর্ধশতাধিক ইসলামি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন মাদরাসাকেন্দ্রিক ট্রাস্ট, এতিমখানা, দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র ও ত্রাণসংস্থা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। প্রচারের আলোয় না এলেও তাদের অবদান বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলেম সমাজের মানবসেবা শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা নৈতিক অবক্ষয় রোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি, যুবসমাজকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের উপদেশ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ সঠিক পথে ফিরে আসে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।

বর্তমান বিশ্বে মানবসেবাকে আরও কার্যকর করতে আলেম সমাজের উচিত আধুনিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করলে মানবকল্যাণের পরিধি আরো বিস্তৃত হবে। এতে ইসলামের দয়া, ন্যায় ও সহমর্মিতার শিক্ষা মানুষের সামনে আরো উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠবে।

আলেম সমাজ শুধু ধর্মীয় নেতা নন; তারা সমাজের বিবেক, নৈতিকতার পথপ্রদর্শক এবং মানবকল্যাণের অগ্রদূত। তাদের পরিচালিত মানবসেবামূলক কার্যক্রম ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে। আজকের সমাজে এমন আলেম ও এমন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন আরো বেশি, যারা মানুষকে শুধু কথায় নয়, কর্মের মাধ্যমেও ইসলামের মহান আদর্শের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেবে। মানবসেবায় নিবেদিত আলেম সমাজই পারে একটি সহমর্মী, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে।

সৌদি আরব গেছেন সিরাত অলিম্পিয়াডের ওমরাহ বিজয়ী নাজিফা খান

আবেগের পরিণতি অশুভ না হোক

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুমিনের পরিচয়

একনজরে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)

সুরা কাহফ: ঢাল ও আলোকবর্তিকা

বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা

১১০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ইউরোপে তৃতীয় বাংলাদেশি হাফেজ সাদ

জ্যোতির্বিজ্ঞান শাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ

একনজরে ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)

ইসলামে কথার সংযম