হোম > ইসলাম ও জীবন

হেবা কী, কখন করা যাবে, কে করতে পারেন, কার জন্য করা যাবে

মুফতি শরীফ মালিক

ইসলামে মালিকানা হস্তান্তরের যে প্রক্রিয়াগুলো বিধিবদ্ধ তার মধ্য হতে একটি হলো— হেবা। হেবা কোরআন-হাদিস ও ইজমা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি বিনিময়হীন আকদ বা চুক্তি। নিম্নে হেবা সম্পর্কে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

১. হেবা কী?

হেবা (الهبة) হলো—কোনো বিনিময় বা প্রতিদান ছাড়াই জীবিত অবস্থায় নিজের মালিকানাধীন কোনো সম্পদ বা অধিকারের মালিকানা অন্যকে প্রদান করা।

ফিকহি সংজ্ঞা:

تَمْلِيكُ الْعَيْنِ فِي الْحَيَاةِ بِلَا عِوَضٍ

অর্থাৎ, জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় কোনো সম্পদের মালিকানা বিনা বিনিময়ে অন্যকে প্রদান করা। (মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহি: ৪২/১২০)

২. হেবা কত প্রকার?

উদ্দেশ্য ও শর্তের বিবেচনায় হেবার বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। সাধারণভাবে বলা যায় হেবা দুই প্রকার—

হেবা মুতলাকাহ (هبة مطلقة): কোনো শর্ত ছাড়া হেবা।

হেবা বিল-শর্ত (هبة مشروطة): কোনো বৈধ শর্তের সঙ্গে হেবা। (মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহি: ৪২/১৩৬)

৩. হেবা কার জন্য করা যায়?

মূলত: যে কোনো যোগ্য ব্যক্তির জন্য হেবা করা যায়—যেমন:

সন্তান, পিতা-মাতা, স্বামী/স্ত্রী, আত্মীয়, বন্ধু, দরিদ্র ব্যক্তি, এমনকি অমুসলিম ব্যক্তিও, যদি হেবা শরিয়তসম্মত উদ্দেশ্যে হয়। তবে সন্তানদের মধ্যে হেবা করার ক্ষেত্রে ন্যায় ও সমতা রক্ষা করার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।

৪. কে হেবা করতে পারে?

যে ব্যক্তি— সম্পত্তির বৈধ মালিক; প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের; স্বেচ্ছায় হেবা করছে; এবং সম্পত্তির ওপর আইনগত/শরিয়তসম্মতভাবে হস্তান্তরের ক্ষমতা রাখে— সে হেবা করতে পারে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অক্ষম ব্যক্তি নিজের সম্পত্তি স্বাধীনভাবে হেবা করতে পারে না। (বাদায়েউস সানায়ে: ৬/১১৮, মুগনি: ২/৩৯৭)

৫. কখন হেবা করা যায়?

জীবিত অবস্থায় যেকোনো সময় হেবা করা যায়। মৃত্যুর পর হেবা কার্যকর করার কথা বলা হলে তা সাধারণ হেবা থাকে না; বরং ওসিয়তের বিধানের আওতায় চলে যায়। হেবা মানে: জীবদ্দশায় মালিকানা হস্তান্তর। আর ওসিয়ত মানে: মৃত্যুর পর কার্যকর করার জন্য সম্পদ প্রদানের নির্দেশ।

৬. হেবার সঙ্গে শর্ত যুক্ত করা যায় কি?

হ্যাঁ, শর্ত যুক্ত করা যেতে পারে; কিন্তু সব শর্ত বৈধ নয়। শর্তটি যদি হেবার প্রকৃতির পরিপন্থী না হয় এবং শরিয়তবিরোধী না হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু এমন শর্ত, যার ফলে হেবার মূল উদ্দেশ্য—মালিকানা হস্তান্তর—নষ্ট হয়ে যায়, তা সঠিক নয়। (মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহি: ৪২/১৩৬)

৭. কোন জিনিস হেবা করা যায়:

সংক্ষেপে বলি— যে বস্তু বিক্রি করা যায় তা হেবা করা যায়। (মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহি: ৪২/১২৫, আল-আশবাহ: ৪৬৯)

মূল কথা:

হেবার ৪টি মৌলিক বিষয় মনে রাখতে হবে: হেবা = (১) জীবদ্দশায় + (২) বিনা বিনিময়ে + (৩) মালিকানা হস্তান্তর + (৪) শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে।

এই চার বিষয়ের কোনো একটিতেও যদি ব্যত্যয় ঘটে তবে হেবা সহীহ হবে না।

লেখক: সিনিয়র মুফতি ও শিক্ষাসচিব, শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

অ্যাপ দিয়ে ইসলাম চর্চায় আত্মিক চাহিদা কতটা মেটে

‘রাসুলের জীবনী শুধু পড়লে হবে না, তার আদর্শকে জীবনের অংশ করে তুলুন’

সৌদি আরব গেছেন সিরাত অলিম্পিয়াডের ওমরাহ বিজয়ী নাজিফা খান

আবেগের পরিণতি অশুভ না হোক

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুমিনের পরিচয়

একনজরে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)

সুরা কাহফ: ঢাল ও আলোকবর্তিকা

বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা

১১০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ইউরোপে তৃতীয় বাংলাদেশি হাফেজ সাদ

জ্যোতির্বিজ্ঞান শাস্ত্রে মুসলিম মনীষীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ