হোম > ধর্ম ও ইসলাম

রোজার আমল বছরজুড়ে

আলী হাসান তৈয়ব

আমরা রমজান মাসের বিদায় লগ্নে উপনীত। সিয়াম-কিয়ামের মাস, রোজা ও তারাবির মাস শেষ হলেও মোমিনের আমল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শেষ হবে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আপনি আপনার প্রভুর ইবাদত করুন, আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত।’ (সুরা হিজর : ৯৯)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়।’ (তিরমিজি : ১৩৭৬)। এখানে একমাত্র মৃত্যুকেই মানুষের আমলের পরিসমাপ্তি ধরা হয়েছে।

সুতরাং রমজান মাসের রোজা শেষ হলেও ঈমানদারের আমল বন্ধ হয়ে যাবে না। রমজানের পরও থাকবে রোজার আমল। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে সিয়াম পালন করবে, অতঃপর শাওয়ালের আরো ছয়টি সিয়াম পালন করবে, সে সারা বছর সিয়াম রাখার সমতুল্য সওয়াবপ্রাপ্ত হবে।’ (মুসলিম : ১১৬৪)। এছাড়া প্রতি মাসে আছে তিনটি করে রোজা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতি মাসে তিনটি এবং এক রমজানের পর পরবর্তী রমজানেও সিয়াম পালন করা সারা বছর সিয়াম পালনের সমান।’ (মুসলিম : ১১৬২)। আছে সাপ্তাহিক সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা। নবীপত্নী আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার সিয়াম পালন করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন।’ (তিরমিজি : ৭৪৫)।

তারাবি শেষ হলেও রাতে নফল নামাজ বন্ধ হবে না। বছরজুড়ে প্রতি রাতেই তাহাজ্জুদ নামাজ অশেষ ফজিলতের সুন্নত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম সালাত হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) সালাত।’ (মুসলিম : ১১৬৩)। রমজানের মতো সারা বছরই শেষ রাতে দোয়া ও প্রার্থনার সুবর্ণ সুযোগ অবারিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা প্রতি রাতে এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে (শেষ রাতে) প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়ে বলতে থাকেন, আছে কেউ ডাকার আমি তার ডাকে সাড়া দেব? আছে কেউ চাওয়ার যাকে আমি দান করব? কেউ আছে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বোখারি : ১১৪৫)।

তাছাড়া রয়েছে দৈনিক ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ। ৪ রাকাত জোহরের আগে ও ২ রাকাত পরে। ২ রাকাত মাগরিবের পর। ২ রাকাত ইশার পর ও ২ রাকাত ফজরের আগে। উম্মে হাবিবা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) এর কাছে শুনেছি, ‘যদি কোনো মুসলিম বান্দা ফরজ ছাড়া ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ প্রতিদিন আদায় করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন।’ (মুসলিম : ৭২৮)। আরো রয়েছে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর কিছু জিকির। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যখন তোমরা নামাজ সম্পন্ন কর, তখন দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর।’ (সুরা নিসা : ১০৩)।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার ৩৩ বার মোট ৯৯ বার এবং সব শেষে ১০০ পূর্ণ করতে বলবে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদির’ তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও আল্লাহ তা মাফ করে দেবেন।’ (মুসলিম : ৫৯৭)

বাঙ্গলার ভাগ্য রজনী: শবে ক্বদর

জাকাত আদায় করা যায় যে ৮ খাতে

শবে কদর যে কারণে এত বেশি মর্যাদাপূর্ণ

শবে কদরের নামাজের নিয়ম ও পড়ার পদ্ধতি

শবে কদরের ফজিলত ও ৫ আমল

আজ লাইলাতুল কদর, এই রাত কাটে ইবাদত-বন্দেগিতে

পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

ভিসা ও ওমরাহ যাত্রীদের প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারণ করল সৌদি

২৬তম তারাবি: আপনি সুমহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত

ঈদের আনন্দ সর্বজনীন করে ফিতরা