আধুনিক জীবনে ডিপ্রেশন একটি বহুল আলোচিত রোগ। ইসলামে ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদের চিকিৎসার বিভিন্ন দিক রয়েছে। আমরা সংক্ষেপে এখানে সেগুলোর সারাংশ তুলে ধরছি-
১. আল্লাহর ওপর বিশুদ্ধ ঈমান রাখা এবং ঈমান সংরক্ষণ করা : ঈমান বিশুদ্ধ হলে আর তার যথাযথ সংরক্ষণের সঙ্গে মানুষের মানসিক অবস্থার গভীর সম্পর্ক আছে। ঈমানকে অটুট রাখলে মন্দ প্রভাব দূর হয়।
২. ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা ও ইবাদতে অটল থাকা : যেমন সালাত, দোয়া, জিকির ইত্যাদি চালিয়ে যাওয়া। বস্তুত আল্লাহর জিকিরে মন শান্ত হয় এবং অন্তরে সাকিনাহ (প্রশান্তি) আসে।
৩. মুসিবতে ধৈর্য ধারণ করা : কারণ এর মাধ্যমে অন্তর প্রশান্ত ও প্রশস্ত হয়।
৪. আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা : বিশ্বাস রাখা যে যা কিছু ঘটে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং এতে কল্যাণ নিহিত আছে। তাই বিপদে ধৈর্য ও সওয়াবের আশায় তা মেনে নেওয়া উচিত।
৫. ভালো লাগার অবলম্বন গ্রহণ করা : যেমন চিকিৎসা গ্রহণ করা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ রাখা। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত বলা।
৬. জীবনকে সুশৃঙ্খল করা : নিয়মিত ঘুম, সঠিক রুটিন মেনে চলা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা।
৭. ইস্তিগফার করা : আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার ও তাওবা করা। গুনাহর বোঝা ডিপ্রেশনের বড় কারণ।
৮. রোগে হতাশ না হওয়া : সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদী থাকা, হতাশা ও নিরাশায় আত্মসমর্পণ না করা।
৯. একাকিত্বে ডুবে না যাওয়া : হাদিসে একা ও বেকার থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো না কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা।
১০. রোগকে স্বীকার করা : ডিপ্রেশনকে হালকাভাবে না নিয়ে গুরুত্বসহকারে চিহ্নিত করা এবং বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া। সঠিক রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
১১. চিকিৎসায় ধৈর্য রাখা : রোগীকে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে, দ্রুত ফলের আশায় হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়; বরং শেফা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে বিশ্বাস রাখা।