পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা পাঁচ দিনে শেষ হয়। হজের অংশ হিসেবে হাজিরা পবিত্র কাবা শরিফ তওয়াফ করেন।
কাবা শরিফ কিসওয়া নামক একটি কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, যার ওপর সোনার সুতা দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত লেখা থাকে।
কাবা শরিফকে সুরক্ষিত, সম্মানিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রাখার উদ্দেশ্যে ঢেকে রাখা হয়। কাবার গায়ে সর্বপ্রথম কে কিসওয়া জড়িয়েছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, ইসলাম-পূর্ব যুগে এই ঐতিহ্যের সূত্রপাত। অনেকে মনে করেন, ইয়েমেনের রাজা তুব্বা আস’আদ কামিল ৪০০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের বিশেষ কাপড় দিয়ে সর্বপ্রথম কাবা ঢেকে দিয়েছিলেন।
অন্য এক মতানুসারে, হজরত ইসমাইল (আ.) নিজেই প্রথম কাবা ঢেকেছিলেন। তবে এর পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। উসমানী আমলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় প্রতিষ্ঠিত গাজী হুসরেভ-বেগ মাদরাসার অধ্যাপক এবং ‘এ গাইড থ্রু মক্কা আল-মুকাররমা’ বইয়ের লেখক মেনসুদ দুলোভিচ বলেন, তিনি যদি কোনো আবরণ দিয়েও থাকেন, তবে তা সম্ভবত পুরো কাঠামোর পরিবর্তে কাবার একটি নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ ছিল।’
কিসওয়া কী
কিসওয়া হলো কালো রেশমি কাপড়, যা কাবা শরিফকে ঢেকে রাখে। কিসওয়া আরবি শব্দ। এর শব্দমূল হলো কাফ, সিন এবং ওয়াও। কিসওয়া শব্দের অর্থ ঢাকা বা আবৃত করা। মূলত, যেকোনো ধরনের পোশাক বা আবরণ বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হতো। কালক্রমে শব্দটি বিশেষভাবে কাবার আবরণের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরব অঞ্চল খেলাফতের কেন্দ্রবিন্দু থাকলেও কিসওয়া তৈরি হতো মিসরে। সেই সময় মিসরের দামিয়েত্তা ও অন্যান্য স্থানে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘তিরাজ’ কারখানায় উন্নত টেক্সটাইল শিল্প গড়ে উঠেছিল। সেখানেই কিসওয়া বোনা ও প্রস্তুত করা হতো।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে কিসওয়া গিলাফ নামে পরিচিত। ফার্সি গিলাফ শব্দের অর্থও কিসওয়ার অনুরূপ: ঢাকনা, আবরণ বা পর্দা।
হজের সময় কিসওয়ার নিচের অংশটি সযত্নে ওপরে তুলে রাখা হয়। মূলত বিপুলসংখ্যক হাজি কাবার কাছাকাছি যেতে এবং বরকত লাভের আশায় এটি স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। তাই, কাপড়টি সুরক্ষিত রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কিসওয়া কোন উপাদানে তৈরি
বর্তমানে কিসওয়া প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে ইতিহাসজুড়ে কাবা ঢাকতে বিভিন্ন ধরনের উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রথম দিকের কিসওয়াগুলো সাধারণত লিনেন, তুলা ও পশমের মতো প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি করা হতো।
কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে ইসলাম-পূর্ব যুগে কিসওয়া হিসেবে চামড়ার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ আছে।