ছেলে বাড়ি আসবে, তাই আগে-ভাগেই ইংল্যান্ড থেকে দেশে এসেছেন দেওয়ান গোলাম মোর্শেদ চৌধুরী। হামজা চৌধুরীর বাবা বাড়িঘর ঠিকঠাক করছেন। হামজার আগমন উপলক্ষে হবিগঞ্জের স্নানঘাটে ইউনিয়নজুড়েও উৎসবের আমেজ বইছে। বাংলাদেশের তো বটেই পুরো দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলা ফুটবলার নেই। ইংলিশ লিগে খেলা এমন একজন তারকা ফুটবলার বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলতে আসছেন ১৭ মার্চ। ওই দিন বেলা পৌনে ১টায় সিলেট বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন হামজা। সিলেট থেকে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের স্নানঘাটে চলে যাবেন এই মিডফিল্ডার। নিজ বাড়িতে রাত কাটানোর পর ঢাকায় যাবেন হামজা।
হামজার আগমন উপলক্ষে গোলাম মোর্শেদ আমার দেশকে বলেন, ‘হামজা পরশু দিন (সোমবার) আসছে। বউ-বাচ্চাসহ তার সঙ্গে অন্তত ১২ জন আসছেন বাংলাদেশে। জাতীয় দলের খেলা থাকার কারণে তার হাতে বেশি সময় নেই। তাই বাড়িতে এক রাত থাকবে সে। এরপর ঢাকায় যাবে।’
এর আগেও হবিগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে এসে ঘুরে গেছেন হামজা। তবে ইংলিশ লিগে খেলার পর এই প্রথম গ্রামের বাড়ি স্নানঘাটে আসছেন এই ফুটবলার। হামজা বাবার বলেন, ‘১৪ বছর বয়সে সে এসেছিল। কিন্তু বড় হয়ে আর বাড়ি আসেনি। দুই বছর আগেও আমরা হামজাকে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করেছিলাম। সবকিছু ঠিকঠাক করাও হয়েছিল। কিন্তু পরে আসতে পারেনি। এই গ্রামের বাড়িতে ছোটবেলায় সে থেকেছে। সময় কাটিয়েছে। তাই বাড়িতে একদিন একান্ত সময় কাটাবে হামজা।’ গ্রামের বাড়িতে হামজাকে সংবর্ধনা দিতে চেয়েছিল এলাকাবাসী। কিন্তু গোলাম মোর্শেদ নিজেই এই সংবর্ধনা বাতিল করেছেন। একে তো সময় নেই। নিরাপত্তার ইস্যুও রয়েছে। গোলাম মোর্শেদ বলেন, ‘এলাকাবাসী সংবর্ধনা দিতে চেয়েছিল। আমি না করে দিয়েছি। ওর তো সময় নেই। ঢাকায় চলে যেতে হবে।’ হামজার নিরাপত্তার ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? হামজার বাবা বলেন, ‘বাফুফের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরাও প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে আশা করি।’ হামজাকে বিশেষ নিরাপত্তাই দেওয়া হবে বলে জানান হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। এই পুলিশ কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ‘হামজার বাবার সঙ্গে কথা-বার্তা হচ্ছে আমাদের। যখন যেভাবে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা সেভাবেই তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছি। তারপরও হামজার বাবার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি যে, কীভাবে নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদার করা যায়। এ নিয়ে আমরা একটা পরিকল্পনা করছি।’ বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশে আসার পর হবিগঞ্জে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকবেন ফুটবলার হামজা। অন্যদিকে, হামজার সঙ্গে একজন ডাক্তার আসার খবর প্রকাশ হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে গোলাম মোর্শেদ বলেন, ‘আসলে এটা ভুয়া কথা। আমিও আপনার মতো এমন কথা শুনেছি। হামজা কোনো ডাক্তার নিয়ে আসছে না। ও একাই থাকবে।’
সময় স্বল্পতার কারণে হামজা চৌধুরীকে বরণ করে নেওয়া জন্য বড় কোনো সংবর্ধনার আয়োজন রাখছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সিলেটের বিমানবন্দরে হামজাকে বাফুফের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বরণ করে নেবেন। এরপর হামজাকে নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন তারা। ঢাকায় হামজাকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করবে বাফুফে। দলের সঙ্গে ফটোসেশন, সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব থাকবে। তবে ভারত রওনা দেওয়ার আগে ঢাকায় দলের সঙ্গে একদিন অনুশীলনে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে পারেন হামজা। ১৬ মার্চ শেফিল্ড ইউনাইটেডের ম্যাচ রয়েছে। এই ম্যাচটি খেলার পরই ইংল্যান্ড থেকে সিলেটের বিমান ধরবেন এই ফুটবলার। আগামী ২৫ মার্চ শিলংয়ে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে অভিষেক হবে ইংলিশ লিগে খেলা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর। সেদিন থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন এক গল্পের শুরু।