টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছে ইতালি। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলবে তারা, এ জন্য অন্যরকম রোমাঞ্চ অনুভব করছে ইউরোপের দলটি। এখন পর্যন্ত নিজেদের দেশে একটিও প্রাকৃতিক পিচ নেই, তবুও ইতালিয়ানরা স্বপ্ন দেখছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা উগড়ে দিতে। যাতে ফুটবল-পাগলের দেশটি নিজের একটা আলাদা অবস্থান তৈরি করতে পারে ক্রিকেট।
ইতালির দলে রয়েছেন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। তাদের নিয়েই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় বিশ্ব আসরে নিজেদের মেলে ধরবে ইতালি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া দলগুলোর মধ্যে র্যাংকিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ইতালি। তারা অবস্থান করছে ২৮তম স্থানে। তবুও ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাই উতরে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে কোনো সমস্যাই হয়নি তাদের।
অলরাউন্ডার হ্যারি মানেন্তির জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়। এখন খেলছেন বিগ ব্যাশ লিগে। ইতালির জার্সি গায়ে জড়িয়ে বিশ্বকাপে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন। ইতালিকে নিয়ে গর্ব করে বলেন, ‘আমরা সারা বিশ্ব থেকে এসেছি। তবে আমাদের প্রত্যেকের ইতালির সঙ্গে গভীর সংযোগ আছে। আমার মনে হয়, যখন আপনি আমাদের বিশ্বকাপে খেলতে দেখবেন তখন এটা বুঝতে পারবেন। আপনারা দেখবেন আমরা ইতালির জন্য কতটা গর্বিত।’
অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের হয়ে খেলা মানেন্তির দাদা ছিলেন ব্রেশিয়ার বাসিন্দা। মানেন্তির বাবা জন মানেন্তি অস্ট্রেলিয়া উইমেন’স রাগবি দলের কোচ। ভাই বেনের সঙ্গে ইতালি প্রতিনিধিত্ব করছেন মানেন্তি। বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে অগ্রণী রেখেছিলেন ফাইফার তুলে নিয়ে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ইতালিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জো বার্নস। চুক্তি নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে বাদ দিয়েছে ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশন (এফসিআরআই)। ইতালির নেতৃত্ব উঠেছে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে হকি বিশ্বকাপ খেলা ওয়েইন ম্যাডসেনের কাঁধে। দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে দলে রয়েছে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া অলরাউন্ডার এমিলিও গে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত অলরাউন্ডার জাসপ্রিত সিং ও পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া ব্যাটসম্যান সৈয়দ নাকভি।
অবশ্য ইতালির কোচ জন ডেভিসনের বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০৩ সালে কানাডার জার্সিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৭ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি। ওই সময়ে সেটা ছিল বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। তার কণ্ঠে উঠে এল ইতালি দলের বৈচিত্র্য, ‘আমাদের দলটা যেন কোনো ফ্রাঞ্চাইজি দলের মতো। সারা বিশ্ব থেকে ওরা এসেছে। তবে জাতীয় দলের জন্য আছে তাদের গভীর ভালোবাসা।’