নাগোয়ায় আজ উঠছে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের পর্দা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে জাপান প্রস্তুত করেছে ক্রীড়া, সংস্কৃতি, সংগীত ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে আলাদা এক আয়োজন। তবে অন্য অনেক বড় ক্রীড়া আসরের মতো চোখধাঁধানো ডিজিটাল প্রক্ষেপণের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে এবার মানুষ, পতাকা, নৃত্য, সংগীত ও সরাসরি পরিবেশনাকে সামনে রাখছে আয়োজকরা।
নাগোয়া সিটি মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। চলবে প্রায় দুই ঘণ্টা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ‘হারমোনিক হার্ট বিট’। এটার মাধ্যমে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ক্রীড়াবিদদের খেলাধুলার মাধ্যমে একই আলোয় মিলিত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করা হয়েছে। পুরো আয়োজনের সৃজনশীল নেতৃত্বে আছেন নাগোয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউকিহিকো সুতসুমি।
আয়োজকদের পরিকল্পনায় ‘হারমোনিক হার্ট বিট’ থাকবে পুরো অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রতীক। নৃত্য, সংগীত, মঞ্চ পরিবেশনা এবং ক্রীড়াবিদদের উপস্থাপনায় এই ভাবনাকে বিভিন্নভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। মাঠজুড়ে মানুষ ও পতাকার ব্যবহার করে দৃশ্য নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ প্রযুক্তি থাকলেও মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ ও শিল্পনির্ভর পরিবেশনাই হবে অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে বেলা ১টা থেকে থাকছে ‘ওয়ার্ম-আপ স্টেজ’। সেখানে পারফর্ম করবে জাপানের জনপ্রিয় সংগীতদল আইএনআই। আয়োজক কমিটি ও দলটির নিজস্ব ঘোষণাতেও ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় এই পরিবেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকবে এই পর্বে।
তবে দিনের শুরুতেই নাগোয়ায় তৈরি হবে অন্য রকম উত্তেজনা। জাপান এয়ার সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের বিখ্যাত ‘ব্লু ইমপালস’ বিমানদল আকাশে বিশেষ প্রদর্শনী করবে। সকাল ৬টা ১০ মিনিটে কোমাকি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে প্রায় ৬টা ৫৫ মিনিটে শেষ হবে প্রদর্শনী। আইচি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে উড়বে বিমানগুলো। হিসায়া-ওদোরি পার্ক এলাকায় থাকবে বিশেষ আকাশ প্রদর্শনী, আর অন্য নির্ধারিত এলাকায় দলবদ্ধ উড্ডয়নের সময় ধোঁয়ার রেখা তৈরি করবে বিমানগুলো।
উদ্বোধনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে ক্রীড়াবিদদের মার্চপাস্ট ও আনুষ্ঠানিকতা। আয়োজকদের পরিকল্পনায় প্রোটোকল পর্বের সঙ্গে শিল্পনির্ভর পরিবেশনা মিলিয়ে অনুষ্ঠান সাজানোর কথা বলা হয়েছে।
এর আগে টোকিও ও হিরোশিমায় প্রজ্জ্বলিত আগুন নাগোয়ায় একীভূত করে ২২ আগস্ট শুরু হয়েছিল এশিয়ান গেমসের মশালযাত্রা। আইচি প্রদেশের ৪০টি পৌর এলাকা ঘুরে ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে সেই যাত্রা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল ভেন্যুতে সেই মশাল প্রজ্বলনের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এশিয়ান গেমস।
সব মিলিয়ে নাগোয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের লক্ষ্য শুধু এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের আনুষ্ঠানিক সূচনা নয়; বরং খেলাধুলার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় এশিয়াকে একটি অভিন্ন আবেগ ও হৃদস্পন্দনে যুক্ত করার বার্তা দেওয়া। ১৯ সেপ্টেম্বরের এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই শুরু হবে ৪৫ দেশ ও অঞ্চলের অংশগ্রহণে ১৬ দিনের ক্রীড়াযজ্ঞ।