বিপিএল
জয়ের জন্য শেষ বলে দরকার ৬ রান। এই রান আটকে রংপুর রাইডার্সকে জয় এনে দেওয়ার দায়িত্ব তখন ফাহিম আশরাফের কাঁধে। তবে ওয়াইড ইয়র্কার লেন্থে করা বলটা ক্রিস ওকস অফসাইডে উড়িয়ে সরাসরি পার করে দেন বাউন্ডারি। শেষ বলের সমীকরণটা দারুণভাবে মিলিয়ে দেন ওকস। তাতে উল্লাসে মাতে সিলেট টাইটান্সের ক্রিকেটার-কোচিং স্টাফের সদস্যরা।
প্রথম ইনিংস শেষে যখন ধরে নেওয়া হয়েছিল সিলেটের নিশ্চিত জয়। সেই ম্যাচ হাতছাড়া করতে বসেছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ আর হাতছাড়া করেনি, শেষ বলে ৬ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে। তাতে দলটির জন্য টিকে থাকল ফাইনালের আশা। এখন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতে ফাইনাল নিশ্চিতের অপেক্ষায় তারা।
ম্যাচের শুরুতে দাপুটে ছিল সিলেট টাইটান্স। পুরো আসর দাপট দেখায় রংপুর রাইডার্সের ব্যাটাররা। তবে প্লে অফের নকআউট ম্যাচে রংপুরের ওই ব্যাটাররাই ছিলেন হতশ্রী। খালেদ আহমেদের দারুণ শুরুতে দলীয় ১১ রানে হারিয়ে বসে তিন উইকেট। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারের কেউ রান নিতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে। পরপর দুই ওভারে তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাসকে ফেরান খালেদ আহমেদ। মাঝে স্বদেশি ডেভিড মালানকে আউট করেন ক্রিস ওকস।
টানা তিন ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া রংপুর খাদের কিনারা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পুরো টুর্নামেন্টে ভরসা হয়ে থাকা কাইল মায়ার্স ১৩ বলে ৮ রান করে আউট হন। পরে হাল ধরার চেষ্টায় ছিলেন খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আক্রমণের উত্তর আক্রমণ দিয়েই হয়- এমনটাই হয়তো ভেবেছিলেন খুশদিল। পাল্টা আক্রমণে ১৯ বলে খেলেন ৩০ রানের ইনিংস।
তবে সিলেট টাইটান্সের বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে সেটা আর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নাসুম আহমেদের বলে আউট হন খুশদিল শাহ। অপরপ্রান্তে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৬ বলে করেন ৩৩ রান। আর রংপুরের অভিজ্ঞ সেনানী নুরুল হাসান সোহান ২৪ বলে করেন ১৮ রান।
তাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে রংপুর রাইডার্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১১ রান। খালেদ আহমেদ ১৪ রানে নেন চার উইকেট। খুশদিল, মাহমুদউল্লাহ ও সোহান ছাড়া রংপুরের আর কোনো ব্যাটার নিজের রান নিতে পারেননি দুই অঙ্কের কোটায়। যার ফল মাত্র ১১১ রানে থামে তাদের ইনিংস।
টি-টোয়েন্টি আর বর্তমান ক্রিকেটের বিবেচনায় রানটা বড্ড কম। তবুও এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রীতিমতো খেই হারিয়ে বসে সিলেট টাইটান্স। ৪৪ রানে হারায় ৪ উইকেট। টপ অর্ডারের রীতিমতো বিধ্বস্ত পারফরম্যান্সে খাদের কিনারায় যাওয়া দলকে টেনে তোলেন স্যাম বিলিংস ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
দুজন মিলে পঞ্চম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৫০ রান! মিরাজ ২৩ বলে ১৮ রান করে ফেরেন। আর বিলিংস আউট হন ৪০ বলে ২৯ রানের ‘ওয়ানডে’ ইনিংস খেলে। বিলিংস যখন ফেরেন প্যাভিলিয়নে তখন জয়ের জন্য সিলেটের দরকার ছিল ১১ বলে ১৫ রান। সেই সমীকরণ মেলাতে গিয়ে মঈন আলী ফেরেন ৯ বলে ৫ রান করে।
তাতে কঠিন হয়ে ওঠে সিলেটের জয়ের পথ। তবে দুই বলে ৭ রানের সমীকরণ মিলিয়ে জয় এনে দেন ক্রিস ওকস ও খালেদ আহমেদ। বল হাতে দারুণ করা খালেদ এক রান নিয়ে ওকসকে দেন সিঙ্গেল। শেষ বলে ঠান্ডা মাথায় ছক্কা হাঁকিয়ে নিশ্চিত করে দেন সিলেটের জয়। এতে উল্লাসে মাতে পুরো সিলেটের ডাগআউট। মনে হচ্ছিল যেন ট্রফিটাই নিজেদের করে নিয়েছেন তারা।
এ জয়ে ফাইনালে খেলার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। এখন সিলেটের অপেক্ষা দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জয় নিশ্চিত করা!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স : ১১১/৯, ২০ ওভার (রিয়াদ ৩৩, খুশদিল ৩০; খালেদ ৪/১৪)।
সিলেট টাইটান্স : ১১২/৭, ২০ ওভার (বিলিংস ২৯, ইমন ১৮; আলিস ২/১৮)।
ফল : সিলেট টাইটান্স ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : খালেদ আহমেদ।