‘ওয়েলকাম হোম দেওয়ান হামজা চৌধুরী’। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পুঁটিজুরী বাজারে স্নানঘাটমুখী প্রবেশদ্বারে এমন লেখা ব্যানার দিয়ে অনেক গেট সাজানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলার জন্য আজ পৈতৃক ভিটা স্নানঘাটে আসছেন ইংলিশ লিগ মাতানো ফুটবলার হামজা। তাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য নানারকম আয়োজন স্নানঘাটে। পুঁটিজুরী বাজার থেকে প্রায় তিন কিলোমিটারে ভেতরে গেলেই স্নানঘাট বাজার। এই বাজারের শেষ প্রান্তেই দেওয়ান হামজা চৌধুরীর পৈতৃক ভিটা। হামজার বাড়ির সামনে গেলে মনে হতে পারে হয়তো কোনো বিয়ের আয়োজন হচ্ছে। হামজা, তার স্ত্রী ও সন্তানের ছবি দিয়ে বিয়ে বাড়ির মতোই সুসজ্জিত গেট তৈরি করা হয়েছে। লাল-নীল ঝাড়বাতি লাগানো হয়েছে। জানা গেল, হামজার সঙ্গে তার স্ত্রী প্রথমবারের মতো এ বাড়িতে আসবেন বলে বাড়তি আয়োজন করছেন হামজার বাবা মোর্শেদ চৌধুরী। বাড়িতে প্রবেশের পরই মনে হলো এক উৎসবের আমেজ। বাড়ির পাশে একটি রঙিন মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বসেই আজ হামজা সবার সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। হামজার বাবার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আজ বাড়ি আসার পর আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধবদের একান্ত সময় দেবেন এই ফুটবলার। এজন্য গ্রামের বাড়িতে একদিন থাকবেন। এরপর ছেলেকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। হামজা নাকি গাড়িতে করেই ঢাকা যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে তাকে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট থেকে বিমান ধরতে হবে। হামজা আসবেন বলে স্নানঘাটে বড় উৎসবের আমেজ বইছে। তার চাচা মাসুদ সিলেটে থাকেন। ভাতিজা দেশে আসছেনÑ এ খবর শুনে বাড়িতে এসেছেন তিনি। মাসুদ আমার দেশকে বলেন, ‘হামজা আগে অনেকবার স্নানঘাটে এসেছে। এখানে ছেলেদের সঙ্গে খেলেছে, সময় কাটিয়েছে। তার অনেক স্মৃতি এই গ্রামে।’ স্মৃতিবিজড়িত গ্রামে অনেক মানুষের খুবই প্রিয় নাম হামজা। দেশে এলে অনেককেই আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। আব্দুল গণি নামের ১০৪ বছর বয়সি স্নানঘাটের বাসিন্দা আমার দেশকে বলেন, ‘হামজা অনেক ভালো। দেশে এলে খোঁজ-খবর নেয়। সে দেশে আসছে বলে আমি অনেক খুশি। বাংলাদেশের হয়ে ফুটবল খেলবে। এটা অনেক বড় ব্যাপার।’ স্নানঘাটের আরেক বাসিন্দা রঙ্গু মিয়া বলেন, ‘হাজমাকে ছোট বেলায় দেখেছি। সে নাকি বড় ফুটবলার হয়েছে। সে দেশে আসবে বলে আমরা খুশি। বাংলাদেশের হয়ে ফুটবল খেলবেÑ এটা অনেক বড় সুনামের বিষয়।’ স্নানঘাট বাজারের এক দোকানি আব্দুল কুদ্দুস। তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘হামজা বড় ফুটবলার হয়েছে। সে কিন্তু আমাদের গ্রামেও খেলেছে ছেলেদের সঙ্গে। আমরা চাই সে দেশের জন্য ভালো কিছু করুক।’