কোথায় হারল দক্ষিণ আফ্রিকা?
উত্তর মিলল অকল্যান্ডের পিচে; বাউন্সে! এমন দুর্দান্ত বাউন্সি উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য নরক। নিউজিল্যান্ডের পেসাররা সত্যিকার অর্থেই পুরো ইনিংস জুড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের নাচিয়ে ছাড়ল। কোনো মতে ২০ ওভারের পুরোটা খেলে ৯ উইকেটে ১৩৬ রান তুলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন দক্ষিণ আফ্রিকা। রান তাড়ায় নেমে নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেটের বড় জয়ের আসল কাজটা করে দিল ওপেনিং জুটি। ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের ওপেনিং জুটিতে মিলল ৯৬ রান। ৫৫ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত থেকে ল্যাথাম দলকে সিরিজে এগিয়ে দিলেন। ৫ ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড এগিয়ে এখন ২-১।
অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে টসে জিতে নিউজিল্যান্ড বোলিং বেছে নেয়। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সেই যে ধাক্কা খেল, আর উঠে দাড়াতে পারল না। ১২ ওভারের মধ্যে ৬৮ রানে ৬৫ উইকেট খুঁইয়ে খুঁিড়য়ে চলা শুরু তাদের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় সফরকারিরা। সাত নম্বরে ব্যাট করতে জর্জ লিন্ডে ১৯ বলে ২৩ এবং লেজের সারিতে ব্যাটিংয়ে কোবানি মোকেইনা ৩ ছক্কা ও ১ বাউন্ডারিতে ২০ বলে অপরাজিত ২৬ রান তোলায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস তিন অংকের ওপরে গেল। তবে দলের ১৩৬ রানের স্কোরটা তেমন চ্যালেঞ্জিং কিছু হলো না।
কিউই পেসার কাইল জেমিসন ২ উইকেট পেলেও ৪ ওভারে ৪২ রানের খরচা গুনতে হয় তাকে। আরেক পেসার লকি ফার্গুসন ছিলেন ঠিক তার উল্টো। ৪ ওভারে তার ব্যয় মাত্র ৯ রান! শিকার করেন ১ উইকেট। ২৪ বলের মধ্যে তার ১৭টিই ডটবল! এই কৃপণ বোলিংয়ের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠে তার হাতে।
রান তাড়ায় নেমে নিউজিল্যান্ডের জয়ের কাজটা সহজ হয়ে গেল দুই ওপেনারের ব্যাটে। দুই ছক্কা ৪ বাউন্ডারিতে ২৬ বলে কনওয়ে ৩৯ রান করে ফিরলেও অন্যপ্রান্তে টম ল্যাথামের ব্যাট হাসল অপরাজিত ৬৩ রানের হাফসেঞ্চুরিতে। ২২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে অকল্যান্ডে জিতে সিরিজে লিড নিল নিউজিল্যান্ড। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ ওয়েলিংটনে ২২ মার্চ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৩৬/৯ (২০ ওভারে, জর্জি ১৫, ইস্টারহুজেন ১৫, লিন্ডে ২৩, মোকেইনা ২৬*, জেমিসন ২/৪২, ফার্গুসন ১/৯, স্যান্টনার ২/২১, সিয়ার্স ২/২৭)।
নিউজিল্যান্ড: ১৩৭/২ (১৬.২ ওভারে, কনওয়ে ৩৯, ল্যাথাম ৬৩*, মাহারাজ ১/৩০)।
ফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: লকি ফার্গুসন।
চতুর্থ ম্যাচ: ২২ মার্চ, ওয়েলিংটন।