ফাইনালে খেলতে হলে জিততেই হবে। তবে শুধু জিতলে চলবে না, জিততে হবে অন্তত ৪১ রানে। এমন সমীকরণের ম্যাচে নিজেদের ব্যাটিংয়ের অঙ্কটাই মেলাতে পারল না বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় সমীকরণ মেলানো কিংবা জয় পাওয়া তো দূরের কথা, লড়াইও করতে পারল না তাওহীদ হৃদয়ের দল। বড় ব্যবধানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়েছে টাইগারদের।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর পারভেজ হোসেন ইমন এবং সাইফ হাসানের প্রতিরোধে খানিকটা আশার আলো দেখতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে রশিদ খানের বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৬০ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। জবাব দিতে নেমে অধিনায়ক রহমত শাহর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৮৭ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
শারজার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ফাইনালের সমীকরণ মেলানোর ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে আফগানিস্তান। আর তাতে জিম্বাবুয়েকে সঙ্গে নিয়ে ফাইনালে উঠেছে আফগানরা।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা হয় বিপর্যয় দিয়ে। স্কোরবোর্ডে ২৮ রান উঠতেই সাজঘরের পথ ধরেন ৪ ব্যাটার। শুরুটা তানজিদ হাসান তামিমকে দিয়ে। দলীয় ৬ রানে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন টাইগার ওপেনার। সৌম্য নিজের খেলা প্রথম বলেই বোল্ড হন। ইয়ামিনের অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি ছেড়ে দেওয়ার বদলে জায়গায় দাড়িয়ে কাট করতে গিয়ে নিজের স্টাম্প হারান তিনি। পরের ওভারেই একই বোলারের শিকার নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৩ বলে ১৫ রান করে ফেরেন তিনি।
ব্যাটিং বিপর্যয়কে আরও বাজে রূপ দেন তাওহীদ হৃদয়। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ব্যাটের মুখ আগেভাগে বন্ধ করতে গিয়ে বল তুলে দেন বোলারের হাতেই।
বিপর্যয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। উইকেট ধরে রেখে ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়াচ্ছিলেন তারা। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৯৩ রানের জুটি।
সাইফ-ইমনের ব্যাটে বিপর্যয় অনেকটাই সামাল দিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। ধৈর্য ধরে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি খারাপ বলগুলোকে বাউন্ডারি ছাড়া করছিলেন ভালভাবেই।
তবে বিপত্তি বাধে সাইফের একটি বাজে শটে। ধৈর্যহারা হয়ে মোহাম্মদ নবির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন সাইফ। বল ব্যাটের কাণায় লেগে ৩০ গজও পার হয়নি। ৮২ বলে ৪১ রান করে ফেরেন সাইফ।
সাইফের উইকেটের পর আবারও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে জ্বরের কারণে দলের বাইরে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরেন মাত্র ২ রান করে।
ম্যাচে আধিপত্য স্থাপনের সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন রশিদ খানও। শেষ ৪ উইকেটের সবগুলো একাই তুলে নিয়েছেন এই লেগ স্পিনার। ৯৬ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন পারভেজ হোসেন ইমন। তার একাকী লড়াইটাও ফেরে রশিদ খানের বলেই।
শুরুতে উইকেট হারানোয় পুরো ইনিংসেই রক্ষণাত্নক ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের খেলা ২৪৮ বলের মধ্যে ১৬৫ বলই ছিল ডট। আর সেই প্রভাবটা ছিল রানের ক্ষেত্রেও। ৪১ ওভার ২ বল ব্যাটিং করে কেবল ১৬০ রান করে টাইগাররা।
আফগানদের হয়ে ৩১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন রশিদ। ওমরজাই এবং আহমাদজাই নিয়েছেন দুটো করে উইকেট।
স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৬০ রান নিয়ে বোলিংয়ে নেমে প্রথম ৩ ওভারে ২৬ রান দেন বাংলাদেশের দুই পেসার। এর মধ্যে একটি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। তীয় ওভারের পঞ্চম বলে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করেছেন এই পেসার।
গুরবাজের বিদায়ের পর আফগানদের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেন তাসকিন এবং শরিফুল ইসলাম। রানটা কমে এলে একটু চাপ বাড়ে আফগানদের ওপর। সেই সুযোগটা নিয়ে সেদিকুল্লাহ অটলকে ফেরান তাসকিন। ৩৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
মাত্র ১৩ রানের ব্যবধানে তাসকিনের দুটো উইকেট খানিকটা আশার সঞ্চার করেছিল বাংলাদেশ শিবিরে। তবে রানের চাপ না থাকায় আফগানদের তেমন চেপে ধরতে পারেননি তাসকিন-মুস্তাফিজুর রহমানরা।
রহমত শাহ ও ইব্রাহিম জাদরান দেখেশুনেই খেলেছেন আলিস আল ইসলাম-মুস্তাফিজুর রহমানদের। তাদের ৭৮ বলে ৫৬ রানের জুটিতে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আফগানরা।
আর ওই জুটিতেই ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন। আফগানিস্তান ৩ অঙ্ক ছোঁয়ার আগে সাজঘরে ফেরেন ইব্রাহিম জাদরান। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হওয়ার আগে ৪৮ বলে ৩৪ রান করেন এই ব্যাটার।
ইব্রাহিমের বিদায়ে অবশ্য রান তাড়ায় তেমন প্রভাব পড়েনি। পরের উইকেটে হাশমতউল্লাহ শহিদীকে নিয়ে আবার ৬৬ রানের জুটি গড়েন রহমত। যে পিচে বাংলাদেশি ব্যাটাররা রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে, সেই পিচে পুরো ইংনিংসেই রহমত ব্যাটিং করেছেন বেশ সাবলীলভাবে। ৯০ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি, ৩৬ রান করেন হাশমত।