হোম > খেলা > ক্রিকেট

ব্যাটিংয়ে টেকনিক্যাল দুর্বলতার প্রশ্নটা উঠছে

বিশ্লেষণ

ইয়াফেজ ইমরোজ ইফাজ

ডারউইনের পর ধারাবাহিকতা আর সাফল্যের সেই ব্লুপ্রিন্ট মেনে চলা নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। কিন্তু ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনেই বাংলাদেশ যা পেল, তাকে বলে কঠিন বাস্তবতা। কঠিনের জায়গায় ‘নির্মম’ শব্দটা সম্ভবত আরো বেশি মানানসই! মাত্র ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া স্কোর হজম করা কঠিন, বিশেষ করে প্রথম টেস্টের সেই দুর্দান্ত জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেট সকালের সেশন থেকেই বাড়তি বাউন্স, সুইং আর সিম মুভমেন্ট দিয়েছে, সেটা স্পষ্ট। কিন্তু সত্যি কথা বলতে এই ধসের কতটা উইকেটের দোষ আর কতটা নিছক টেকনিক্যাল দুর্বলতাÑসে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মিচেল স্টার্ক বোলিং করেছেন একেবারে বিষাক্ত ছোবলের মতো। তার বাঁহাতি অ্যাঙ্গেল, গতি আর দেরিতে সুইং বারবার ফাঁস করে দিয়েছে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে। বিশ্বমানের একজন পেসার যখন স্টাম্প লাইনে টানা বল করে দেরিতে মুভমেন্ট আদায় করেন, তখন ব্যাটিং পরিকল্পনা সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে হয়।

কিন্তু বাংলাদেশ সেই মানিয়ে নেওয়ার কাজটাই করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার আগ্রাসী পেস আক্রমণ প্রথম বল থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, আর তাদের অবিরাম হুমকিতে বাংলাদেশ নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে যায়।

সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে যখন দেখি, ডারউইনের সেই ধৈর্য আর শৃঙ্খলা কত দ্রুত হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। প্রথম টেস্টে ব্যাটাররা বল ছেড়ে দিতে জানতেন, বোলারদের ক্লান্ত হওয়ার অপেক্ষা করতেন, বলকে কাছে আসতে দিতেন এবং দেরিতে খেলতেন। আজ (শনিবার) সেই দৃষ্টিভঙ্গির ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না।

টপ অর্ডারের আউটগুলোর দিকে তাকান। সাদমান লাইনের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে দেরিতে সুইং করা বলে পরাস্ত। তানজিদ আর মুমিনুল দুজনেই প্রায় একই ধরনের শট খেলে বিদায় নিলেন নিজেদের রেঞ্জের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে, যা শেষ পর্যন্ত ছিল একেবারেই অপ্রয়োজনীয় শট। শান্ত কিছুটা দুর্ভাগ্যের শিকার; তবে টপ অর্ডারের সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। মনে হচ্ছিল যেন তারা জীবনের প্রথম টেস্ট খেলছেন, পরিস্থিতির চাপে একেবারে ভেঙে পড়েছেন।

প্রথম দিন স্কোরবোর্ডে যদি আরো ১০০ রান যোগ হতো, তাহলে ম্যাচ এখনো পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে থাকত, আর চাপে থাকত অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম দিনই পড়েছে ১৮ উইকেট। এর মানে দুদলের বোলাররাই ছিলেন দুর্দান্ত। বাঁহাতি পেসার শরিফুল সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দিলেন।

ম্যাকাইর উইকেট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কি নাÑসেটা এখনো বলার সময় আসেনি। তবে এ ম্যাচ থেকে যদি কোনো ইতিবাচক দিক খুঁজে বের করতে হয়, তাহলে সেটা হলো বিশ্বক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসারদের আর হালকাভাবে নেওয়া চলবে না। এখানে প্রসঙ্গের জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যাক : প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়া যখন বোলিং করেছে, তাদের গড় সুইং ছিল ২৪.৭ সেন্টিমিটার; আর বাংলাদেশ যখন বোলিং শেষ করেছে, তাদের গড় সুইং ছিল ৩৪.৫ সেন্টিমিটার। ব্যবধানটা বিশাল, আর এখানেই এই পেস আক্রমণের ভয়ংকর দিকটা লুকিয়ে।

তাহলে কি এই টেস্টে সাফল্যের দরজা দুদলের জন্যই খোলা? হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে। এই ম্যাচ যেকোনো দলই জিততে পারে। উইকেটটা কি খারাপ? আসলে কোনটা প্রকৃত অর্থে স্পোর্টিং উইকেট, সে বিতর্কে না গিয়ে বরং সে রায়টা আইসিসির ওপরই ছেড়ে দেওয়া ভালো।

দ্বিতীয় দিনই হতে যাচ্ছে এই টেস্টের মোড় ঘোরানোর দিন। আজ দিনশেষে বোঝা যাবে কে এই ম্যাচে দাপট দেখাচ্ছে, আর তৃতীয় দিনে কে খেলা নিজের করে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে। ম্যাকাইতে চারদিনের টেস্ট দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে হয়। কিন্তু এই ম্যাচ যদি কিছু শিখিয়ে থাকে, তা হলোÑকখনো কিছু নিয়ে একেবারে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

বাংলাদেশ এখনো এ টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা রাখতে পারে। আরো অনেক চড়াই-উতরাই দেখার বাকি থাকতে পারে। এই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসই হবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধৈর্য আর সামর্থ্যের আসল পরীক্ষা।

সকালটা শুরু হয়েছিল ব্যাটিং ধসের ভয়াবহতা দিয়ে; কিন্তু দিনটি শেষ হলো বাংলাদেশের স্বস্তির সঙ্গে নতুন আশা নিয়ে। দোলকটা এখনো দুলছে, কোনদিকে? অস্ট্রেলিয়া, নাকি বাংলাদেশের পক্ষে?

কোনো গ্যারান্টি অন্তত আমি দিতে পারছি না।

এরদোয়ানকে ঠেকাতে মরিয়া ইসরাইল

পূর্বধলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

‘ইরানে হামলার পর বিশ্বে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে’

রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত সেনা সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ম্যাকাইয়ের মাইনফিল্ডে ব্যাটাররা বিধ্বস্ত

পুরো বিশ্ব বুঝে গেছে ট্রাম্প বোকা: ইরানের নিরাপত্তা প্রধান

৬৪ অলআউটের ধরন-ধারণ

তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ওসি প্রত্যাহার

ছাত্রশক্তি নেতাকে মারধর করে ফেসবুক লাইভে হেনস্তা, অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

এসবিএসি ব্যাংকে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন শীর্ষক কর্মশালা