বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পরিচালক আমজাদ হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর পরের দিনই তিনি পুরো বিসিবি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে আমজাদ জানান ব্যক্তিগত কারণে তিনি বিসিবির পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে সরে দাঁড়ানোর পেছনে যে ব্যক্তিগত কারণে যে অভিমান বেশি কাজ করেছে তা স্পষ্ট তার কথায়। অর্থাৎ, বোর্ডের সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে প্রতিবাদস্বরূপ বিসিবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আমজাদ হোসেন। গতকাল আমার দেশকে এমনটাই জানান বিসিবির সদ্য সাবেক এই পরিচালক।
আমার দেশের সঙ্গে আলাপকালে আমজাদ হোসেন জানান, তাকে শুধু সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। মিডিয়া কমিটির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সময় তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাকে শুধু অবহিত করে মোখছেদুল কামাল বাবুর হাতে মিডিয়া কমিটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। তাকে সিদ্ধান্তটি অবহিত করেন স্বয়ং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এরপরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান আমজাদ হোসেন। তাকে সিদ্ধান্ত জানানোর পর অনলাইনে হওয়া এক বৈঠকের পর মোখছেদুল কামাল বাবুর কাঁধে তুলে দেওয়া হয় মিডিয়া কমিটির দায়িত্ব।
আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘বলতে পারেন বিসিবির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্রতিবাদস্বরূপ পদত্যাগ করেছি।’ তিনি জানান, মিডিয়া কমিটির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সময় তার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। শুধু অবহিত করা হয়েছে। এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার ভুল-ত্রুটিগুলো জানায়নি, বা কেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার পরিষ্কার কোনো ব্যাখাও আমাকে জানানো হয়নি।’
তিনি আরো জানান, বিসিবি হয়তো মনে করেছে তার সার্ভিস আর দরকার হবে না। সে কারণে মিডিয়া কমিটির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিসিবির এই সিদ্ধান্তের পর নিজেও আরো বড় সিদ্ধান্ত নেন আমজাদ। পরিচালকের পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এ সিদ্ধান্তে আরো একটু স্পষ্ট হয়েছে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল একক সিদ্ধান্তে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তাকে বিসিবিতে আর নতুন কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বিসিবি থেকে সরে দাঁড়ালেও বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে কথা বলতে নারাজ তিনি। এ নিয়ে আমার দেশের কাছে তার ভাষ্য ছিল, বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করতে পেরেছেন। নানান বিষয়ে মত-দ্বিমত হলেও কোনো সমস্যার মুখোমুখি হননি বলেও জানান তিনি।
বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে কথা না বললেও সবশেষ বিসিবি নির্বাচন আরো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারত বলে মন্তব্য করেন আমজাদ হোসেন। রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সব নির্বাচনেই তো হতে পারে। অনেক পরাক্রমশালী দেশেও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠে থাকে। এটা তো চলমান প্রক্রিয়া। সামনেও বোর্ডে অনেক নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ। সেগুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। ওইটা থাকবেই। হয়তোবা আরো স্বচ্ছভাবে হলে হতে পারত।’
আমজাদ হোসেনকে আকস্মিকভাবে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে- তা মোটেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয় বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক পরিচালক। তিনি বলেন, ‘যদি কার্টেসির কথার চিন্তা করা হয়, তাহলে এটা মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে বিসিবি সভাপতি চাইলে তো সরিয়ে দিতে পারেন। এই ক্ষমতা তার আছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘নাজমুল সাহেবকে (এম নাজমুল ইসলাম) যদি ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমজাদ তো তেমন কিছুই করেননি। তাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া মোটেও স্বাভাবিক হয়নি।’
সব মিলিয়ে তার পদত্যাগ বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পরিষদকে ফেলেছে আরো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। এর আগে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে বিসিবি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরেক পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক। তার পদত্যাগ পত্র বিসিবিতে পড়ে আছে। তবে সেটা এখনো গৃহীত হয়নি। আমজাদেরও পদত্যাগপত্রও কি বিসিবির ফাইলেই পড়ে থাকবে? বিসিবি অবশ্য আমজাদ হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।