জয়ের খুব কাছে গিয়েও আফগানিস্তানের শেষ দুটি উইকেট ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। আবুধাবি টেস্টে ১৪২ ওভার ব্যাটিং করে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ ড্র করেছে আফগানিস্তান। শেষ দিনে একাধিক সুযোগ নষ্ট করার আক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্বীকার করেছেন, ছোট ছোট ভুলের মূল্য দিতে হয়েছে তাঁদের।
ক্রিকইনফোকে শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়েছি, কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। এমন কন্ডিশনে এসব বিষয়ই পার্থক্য গড়ে দেয়। আজ আমাদের ১০ উইকেট নেওয়া উচিত ছিল। ছোট ছোট ভুলের কারণেই আমার মনে হয়, ম্যাচটি ড্র হয়েছে। ফলটা অবশ্যই হতাশাজনক। তবে পাঁচ দিনই আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি।’
ম্যাচের শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছিল একাধিকবার। ক্যাচ ছেড়েছে দল, স্টাম্পিংয়ের সুযোগ নষ্ট হয়েছে, রানআউটের চেষ্টাও সফল হয়নি। এমনকি ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের ব্যাটে লেগে বল স্টাম্পে আঘাত করলেও বেলস না পড়ায় বেঁচে যান আফগান ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের সব পরিশ্রম ব্যর্থ করে দিয়ে দুই উইকেট হাতে রেখেই ড্র নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।
শান্ত অবশ্য বোলারদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিকূল কন্ডিশনেও দীর্ঘ সময় ধরে শৃঙ্খলা বজায় রেখে সঠিক জায়গায় বল করেছেন বোলাররা। তবে এমন নিষ্প্রাণ উইকেটে, বিশেষ করে টেস্টের শেষ দিকে, কীভাবে আরও কার্যকরভাবে উইকেট নেওয়া যায়, সেই কৌশল খুঁজে বের করতে হবে।
শান্ত বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে এমন কন্ডিশনে খেলা আমাদের প্রয়োজন ছিল। এই অভিজ্ঞতা সামনে কাজে দেবে। আমাদের অভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ আছে। সবাই জানে তাদের কী করতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা লাইন লেংথ বজায় রেখে সঠিক জায়গায় বল করেছে। তবে এমন কন্ডিশনে কীভাবে আরও ভালো বোলিং করা যায়, সেটা বোলাররা ভেবে দেখতে পারে।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক প্রশংসা করেছেন ম্যাচসেরা লিটন দাসেরও। এই টেস্টে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরির পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল করেছেন লিটন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে এক ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় তাঁর পারফরম্যান্সকে অসাধারণ বলেছেন শান্ত। পাশাপাশি কয়েকটি ম্যাচে কম রান করার পর লিটনের এমন প্রত্যাবর্তনকে দলের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন তিনি।