ভারত ও আইসিসির কাছে নতিস্বীকার করেনি বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতের মাঠে খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) চাপে বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার আলটিমেটাম পেয়েও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল বিসিবি। নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলেও শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার অনুমতি পায়নি বাংলাদেশ। উল্টো ভারতকে খুশি করতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বৈশ্বিক আসরে খেলার সুযোগ দিয়েছে জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেওয়া আইসিসির এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ভেবেচিন্তে ও সুপরিকল্পিতভাবে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, খেলাধুলার মাঠে রাজনীতির কোনো স্থান নেই এবং এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।
এদিকে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি- আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। খেলাধুলার মাঠ রাজনীতির জন্য নয়। এই সিদ্ধান্ত খুব চিন্তা-ভাবনা করেই নেওয়া হয়েছে এবং আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এটি একটি যথাযথ সিদ্ধান্ত।’ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তার দেশ ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনি বলেন, আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ, খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি, এটি খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।’
এর আগে নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভের মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার মতো জঘন্য কাজটি বিসিসিআইকে দিয়ে করায় ভারত সরকার। এ ঘটনার জেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুরো দলের নিরাপত্তা শঙ্কায় চিন্তিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে স্থানান্তরের দাবি জানায়। ভারত থেকে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার যৌক্তিক দাবি তোলে বাংলাদেশ। এ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে তিন সপ্তাহের বেশি সময় আলোচনা ও চিঠি চালাচালি চলে। বাংলাদেশের এই দাবিকে সমর্থন করে আইসিসিকে চিঠি দেয় পাকিস্তান। তাতেও ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে বের হতে পারেনি বিশ্বক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারা ভারতের প্রভাবে শেষমেশ নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।