গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ের পর পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফেরাল সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৩২ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে ৪৪ ওভারে ১৯০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া—ইনিংসের প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারি। লাহোরের ধীরগতির উইকেটে পাকিস্তানি বোলারদের তোপের মুখে একসময় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা।
তবে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক জশ ইংলিশ এবং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। দুজনেই লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরি উপহার দেন। গ্রিন ৯২ বলে ৫৩ এবং ইংলিশ ৭৪ বলে ৫১ রান করেন। শেষের দিকে অলিভার পিকের ৩১ রানের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩১ রানের লড়াকু পুঁজি পায় অস্ট্রেলিয়া।
পাকিস্তানের পক্ষে বাঁহাতি পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি ৩৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া আরাফাত মিনহাস, আবরার আহমেদ ও হারিস রউফ প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন।
২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক পাকিস্তান। মাত্র ৬ রানেই ওপেনারসহ ২ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। অস্ট্রেলিয়ার পেসার নাথান এলিসের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের টপ-অর্ডার। মাত্র ৭৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে স্বাগতিকরা।
সপ্তম উইকেটে অলরাউন্ডার শাদাব খান একা হাতে লড়াই শুরু করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন লোয়ার-অর্ডারের গাজী ঘোরী (৩৭) এবং তরুণ আরাফাত মিনহাস (৩৩)। শাদাব খান দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ৭১ রান করে দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু তানভীর সাঙ্ঘার বলে তিনি স্টাম্পিংয়ের শিকার হলে পাকিস্তানের শেষ প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৪৪ ওভারে ১৯০ রানে অল-আউট হয় পাকিস্তান।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাথান এলিস। তিনি ১০ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। এছাড়া পার্ট-টাইম স্পিনার ম্যাথু শর্ট ৩৬ রান খরচায় তুলে নেন ৩টি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ২৩১/৯ (৫০ ওভার) – ক্যামেরন গ্রিন ৫৩, জশ ইংলিশ ৫১; শাহীন আফ্রিদি ৩/৩৬।
পাকিস্তান: ১৯০/১০ (৪৪ ওভার) – শাদাব খান ৭১, গাজী ঘোরী ৩৭; নাথান এলিস ৪/৩৩, ম্যাথু শর্ট ৩/৩৬।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাথান এলিস।