টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাইয়ের তিক্ততার পর ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল শ্রীলঙ্কা। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার উইল জ্যাকসের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের কাছে পরাস্ত হতে হলো সফরকারীদের। ৮৯ রানের বড় জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
চেস্টার-লি-স্ট্রিটে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। শুরুতেই ১৬ রানে ওপেনার টম ব্যান্টার (১০) প্যাভিলিয়নে ফিরলেও অভিজ্ঞ জো রুট এবং বেন ডাকেট প্রাথমিক চাপ সামাল দেন। রুট ৫২ বলে ৪৪ এবং অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ৬৯ বলে ৬৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেললে ৩১ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৮২ রানের শক্ত ভিত পায় স্বাগতিকরা। কিন্তু ব্রুকের বিদায়ের পরই হঠাৎ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। জস বাটলার ৩১ রান করে আউট হন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে উইল জ্যাকস ৪৭ বলে ৫টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দলকে ২৬৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন। ৪৮.১ ওভারে ২৬৫ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আসিথা ফার্নান্দো ও সাচিন্দু কলম্বাগ ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
২৬৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ বোলিং আক্রমণের সামনে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কানরা। ইনিংসের ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনে ধস নামান অফ-স্পিনার উইল জ্যাকস। তার ঘূর্ণি জাদুতে দিশেহারা হয়ে ৩৭ ওভারে মাত্র ১৭৬ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দলের হয়ে দুনিত ওয়েলালাগে ৪৫ ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ৪২ রান করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
উইল জ্যাকস মাত্র ২২ রান দিয়ে ৫টি উইকেট তুলে নেন। এটি তার লিস্ট ‘এ’ ও আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ফাইফার’, যা ওয়ানডে ইতিহাসে ইংল্যান্ডের স্পিনারদের জন্য দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার।
ব্যাট হাতে অপরাজিত ৪৬ এবং বল হাতে ২২ রানে ৫ উইকেটের অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ইংলিশ অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস।