হেডিংলি ও লর্ডসে টানা দুই ম্যাচ বিশাল ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে সিরিজও হাতছাড়া করেছে সফরকারীরা। শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য তাই জয়ের ছন্দটা ধরে রাখা। স্বাগতিকদের সামনে এখন অতিথিদের হোয়াইটওয়াশ করার সুবর্ণ সুযোগ। এ কারণে পাকিস্তানের সামনে শুধুই সম্মান বাঁচানো ও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের চ্যালেঞ্জ। বার্মিংহামের এজবাস্টনে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুদল। দুদলের লড়াই শুরু হবে বিকাল ৪টায়।
প্রথম দুই টেস্টে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে রীতিমতো ঝড় বয়ে গেছে। এজবাস্টন টেস্টের আগে এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সহ-অধিনায়ক সালমান আলী আগা, উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান, ওপেনার ইমাম-উল-হক ও অলরাউন্ডার আমির জামালসহ মোট সাতজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে। শুধু স্কোয়াডেই নয়, পরিবর্তন এসেছে ম্যানেজমেন্টেও। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে আপৎকালীন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাইক হেসনকে। এছাড়া নতুন রূপের এই দলটির অধিনায়কের দায়িত্বে পুনরায় ফেরানো হয়েছে বাবর আজমকে। সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাসের মতো তরুণ মুখদের নিয়ে মাঠে নামছে ব্যাকফুটে থাকা পাকিস্তান।
অন্যদিকে, জোফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন ও অলি রবিনসনদের নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ নিয়ে বেশ স্বস্তিতেই রয়েছে স্বাগতিকরা। সিরিজে ১৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষ বোলার হিসেবে আধিপত্য বজায় রেখেছেন রবিনসন। ব্যাটিংয়ে হ্যারি ব্রুক ও জর্ডান কক্সের সঙ্গে জো রুট ছন্দে থাকায় দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে ইংলিশরা। অবশ্য মাঠের বাইরের এক শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত ঘটনার কারণে এজবাস্টন টেস্টের দল থেকে পেসার ব্রাইডন কার্সকে বাদ দিয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।
সব মিলিয়ে, এজবাস্টনে একদিকে ফর্মের চূড়ায় থাকা শক্তিশালী ইংল্যান্ড, অন্যদিকে ছন্নছাড়া অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় নতুন চেহারার পাকিস্তান। মাঠের বাইরের বিতর্ক একপাশে রেখে বাবর আজমরা কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেটাই এখন দেখার।