হোম > খেলা > ক্রিকেট

নাহিদ নাচালেন নিউজিল্যান্ডকে

স্পোর্টস রিপোর্টার

বৈশাখের তপ্ত দুপুরে ওয়ানডে ম্যাচ। তপ্ত রোদের দিনে হালকা বাতাসেও শরীর জুড়ানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমন গরমের মাঝেই দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামে বাংলাদেশ। গতকাল সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ওপর দিয়ে একরকম বৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। বল হাতে সেই বৈশাখী ঝড় তুলে নিউজিল্যান্ডকে একরকম নাচিয়েই ছেড়েছেন তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা।
প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর দলের চাহিদা ছিল পুরোপুরি স্পোর্টিং উইকেট। সেই চাহিদা পূরণে উইকেটে রাখা হয়েছিল খানিকটা ঘাস। সেই সুবিধাটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন পেসার নাহিদ রানা। ৫ ম্যাচের ব্যবধানে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফারের দেখা পেয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। তার বোলিং তোপে মোটে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। দারুণ বোলিং করা এই ডানহাতি পেসারের বোলিং ফিগার ১০-১-৩২-৫! অর্থাৎ, ১০ ওভারে ১ মেইডেন দিয়ে ৩২ রান খরচায় তার শিকার ৫ উইকেট।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে প্রথম বোলিংয়ে আসেন নাহিদ রানা। শুরুর বলেই গতির ঝড় তোলেন নাহিদ রানা। ১৪৪.৭ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে করা বলের লাইনটাই বুঝতে পারেননি হেনরি নিকোলস। লাইন বুঝতে না পারা নিকোলস আউট হন লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে। প্রথম স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন নাহিদ। এবার গতির সঙ্গে বাউন্সের মিশেলে পরাস্ত করেন অভিজ্ঞ উইল ইয়ংকে।
প্রথম ওয়ানডেতে স্পিনিং ট্র্যাক দেখা ইয়ংয়ের হয়তো কল্পনাতেও ছিল এমন বাউন্সের দেখা পাবেন মিরপুরের উইকেটে। ১৪৬.৮ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতির ওই বলে বাউন্স থাকায় খানিকটা ভড়কে যান। তাতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে ফেরেন ইয়ং। তাকে বিদায় করার পাশাপাশি কোনো রানও খরচ করেননি এই ওভারে। এই স্পেলের তৃতীয় ওভারে নাহিদের খরচ ছিল এক রান। পরের দুই ওভারে উইকেট না পেলেও খুব বেশি খরুচে ছিলেন না এই ডানহাতি। তাতে প্রথম স্পেল শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৫-১-১০-২!
নিজের দ্বিতীয় স্পেলে তিন ওভার বোলিং করেন নাহিদ রানা। এ সময় তার খরচ ছিল ১০ রান। তাতে দ্বিতীয় স্পেল শেষে বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৮-১-২০-২! এই স্পেলে উইকেট না পেলেও গতির ঝড়ে কিউইদের দেখান চমক। তৈরি করেন তুমুল অস্বস্তি।
নিজের তৃতীয় ও শেষ স্পেলের প্রথম ওভারে ফেরান ডিন ফক্সক্রফটকে। উইকেটে থিতু হয়ে থাকা ব্যাটার যখন ভয়ংকর হয়ে ওঠার অপেক্ষায় তখনই দলকে এনে দেন ব্রেকথ্রু। ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দেন ফক্সক্রফট। তাতে প্রথম ৯ ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৯-১-৩১-৪!
নাহিদ রানা গতকাল তার নিজের প্রথম চার উইকেটের তিনটিই নিয়েছেন ওভারের প্রথম বলে। তার শেষ উইকেট আসে তার বোলিং কোটার শেষ ওভারে। ১৪১.৬ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে করা বলে আউট হন জেইডেন লেনক্স। মিডল স্ট্যাম্প বরাবর করা ইয়র্কার ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন লেনক্স। তার বিদায়ের পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামবে ২০০ রানের আগেই। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। কিউইরা থামে ১৯৯ রানে।
ক্যারিয়ারের দশম ম্যাচে এসে দ্বিতীয় ফাইফারের দেখা পেয়েছেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ১০ কিংবা তার চেয়ে কম ম্যাচ খেলে একাধিক ফাইফার নেওয়া দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। এর আগে নিজের নবম ম্যাচে এসে তৃতীয় ফাইফারের দেখা পেয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৫ সালে অভিষেক ম্যাচে প্রথম ফাইফার পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। সেই ধারাবাহিকতা ছিল দ্বিতীয় ম্যাচেও। আর আর তৃতীয় ফাইফার পেয়েছিলেন নবম ম্যাচে।
এছাড়া বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফাইফারের মালিক এখন নাহিদ রানা। তার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আছেন তাসকিন আহমেদ। আর সর্বোচ্চ পাঁচবার ফাইফার নিয়ে সবার ওপরে আছেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি পেসাররা মোট ১৬ বার ফাইফার পেয়েছেন।


বাংলাদেশি পেসারদের ফাইফার
৫- মোস্তাফিজুর রহমান
২- তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা
১- আফতাব আহমেদ, আবু জায়েদ, ফরহাদ রেজা, জিয়াউর রহমান, রুবেল হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও হাসান মাহমুদ।

‘দলকে জেতাতে পারছি কি না এটাই গুরুত্বপূর্ণ’

তৃতীয় ওয়ানডের দলে তানজিম

‘ভুল সময়ে উইকেট হারানোটাই বড় পার্থক্য’

জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিসিবির নির্বাচন: তামিম

বিদায়ী সংবর্ধনায় আপ্লুত রুবেল

কিউইদের হারিয়ে সিরিজ সমতায় বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো লঙ্কান মেয়েদের হারাল বাংলাদেশ

৬ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর মিশন আজ

রাজশাহীতে মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মেয়েরা