হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘বিতর্কিত’ রান আউট সালমান, প্রশ্নটা স্পিরিটের

স্পোর্টস রিপোর্টার

মিরপুরে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯ ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজের করা চতুর্থ বলটা ছিল লেন্থ ডেলিভারি। বড় শট খেলার বদলে ডিফেন্ড করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। বলটা সরাসরি আসছিল বোলার মিরাজের দিকে। পপিং ক্রিজের বাইরে থাকা নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান আগা ব্যাট দিয়ে থামিয়ে বল হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন পর্যন্ত আম্পায়াররা কেউ বলটিকে ডেড ঘোষণা করেননি। ফলে মেহেদি হাসান মিরাজ বল হাতে নিয়ে সালমানকে করেন রান আউট। তাতে তৈরি হয়েছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। কারো মতে, এখানে ভঙ্গ করা হয়েছে ক্রিকেটের স্পিরিট। আবার কেউ কেউ মনে করেন—এটা সঠিক কাজটাই করেছেন মিরাজ।

রান আউটের আবেদনের সঙ্গে মাঠেই মেজাজ হারিয়ে বসেন সালমান আগা। তিনি আগ থেকেই স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন আউট হতে যাচ্ছেন। নিজের ব্যাট, গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে ফেলে দেন মাঠে। তবে নিয়মের মধ্যে থাকায় অনফিল্ড আম্পায়ার তানভীর আহমেদ নেন থার্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার সাহায্য। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, ক্রিজের বাইরে ছিলেন সালমান আগা। ফলে তিনি আউট ঘোষণা করেন। জায়ান্ট স্ক্রিনে আউট ভেসে ওঠার পর মাঠ ছাড়ার সময় মিরাজের উদ্দেশে মেজাজ হারিয়ে কিছু একটা বলতে দেখা যায় তাকে।

ঘটনার সময় মিরপুরের ধারাভাষ্য কক্ষে ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার রমিজ রাজা। টিভিতে যখন ঘটনার রিপ্লে বারবার দেখানো হচ্ছিল, তখন তিনি বলে ওঠেন মিরাজ ক্রিকেটের স্পিরিট ভেঙেছেন। তার কথায়, ‘আমি নিশ্চিত এই রানআউট আগামীকাল (আজ) খবরের শিরোনাম হবে। সে (সালমান আগা) বোলারকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছে। বল তুলে তার কাছে দিতে চেয়েছিল। তবে মেহেদি মনে করেছে সে (সালমান আগা) ক্রিজের বাইরে, সে কারণে নিয়মের মধ্যে থেকে রানআউট করেছে। এটা দারুণ সিদ্ধান্ত। তবে ক্রিকেটের স্পোর্টসম্যানশিপ ভালোভাবেই আহত হয়েছে।’

সে সময় সালমান আগার পক্ষ নিয়ে রমিজ রাজা বলেন, ‘সে (সালমান আগা) কোনোভাবেই এটা বিশ্বাস করতে পারছে না। এটা (রানআউট) বিতর্কিত (সিদ্ধান্ত) হবে। এটা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছি না। তবে এটা সালমানের জন্য বড় শিক্ষা।’

সালমান আগার এই আউট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হয়েছে বেশ আলোচনা-সমালোচনা। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ধারাভাষ্যে একাধিক সমর্থককে দেখা গেছে মিরাজের সমালোচনা করতে। ঘুম্মান নামে এক পাকিস্তানি সমর্থক লেখেন, ‘টেকনিক্যালি সে আউট। তবে ক্রিকেটে স্পিরিট বলেও তো একটা কথা আছে।’ জাওয়াদ নামে আরেক সমর্থক লেখেন, ‘পাগলের মতো কাজ করেছে সালমান। ক্রিজে ফেরত যাওয়ার বদলে কে বল ধরতে যায়।’

৫০ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ব্যাট হাতে দারুণভাবে এগোচ্ছিলেন সালমান আগা। আউট হওয়ার সময় তার ব্যাটে ছিল ৬২ বলে ৬৪ রান। এছাড়া চতুর্থ উইকেট জুটিতে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ১১৫ বলে ১০৯ রান যোগ করেন সালমান আগা। ওপেনিংয়ে দারুণ শুরুর পর এই জুটিই আশা জাগাচ্ছিল পাকিস্তানের সংগ্রহ পার করবে ৩০০ রানের কোটা। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা আর হয়নি। সালমান আগার বিদায়ের পর এক বলের ব্যবধানে আউট হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। পরে বলার মতো আর ইনিংস খেলতে পারেননি কেউ। শেষ ৭ উইকেট হারায় ৪৩ রানের মধ্যে। তাতে ২৭৪ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।

পাকিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত এবার মিরাজরা

মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধিতে থমকে যায় পাকিস্তান

কাঁধে চোট, হাসপাতালে তালাত

বজ্রপাতের পর বৃষ্টি শুরু, বাংলাদেশ-পাকিস্তানের খেলা বন্ধ

সিরিজ জিততে বাংলাদেশের দরকার ২৭৫

বিতর্কিত রান আউটে আলোচনা-সমালোচনায় মিরাজ

সাদাকাতের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পাকিস্তানের

বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে বদল নেই

কোটি টাকায় দ্য হানড্রেডে মুস্তাফিজুর রহমান

আজ জিতলেই সিরিজ বাংলাদেশের